Thursday, 15 August 2019

সম্পত্তি বিক্রি করে তৈরি করেছিলেন ইস্টবেঙ্গল ক্লাব’, সুরেশ চৌধুরির স্মৃতিচারণায় তাঁর নাতি





রাজর্ষি গঙ্গোপাধ্যায়:  প্রিয় দাদুর কথা শুনলে আজও ফুঁপিয়ে ওঠেন তিনি। তিরাশির বৃদ্ধের গলা কেঁপে যায়, চোখ ভিজে যায় অজান্তে। ভারতজোড়া লাল-হলুদ সমর্থকের কাছে সুরেশ চৌধুরি প্রাতঃস্মরণীয় ব্যক্তিত্ব। ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে তাঁকে লোকে চেনে, জানে। কিন্তু তিরাশির বৃদ্ধের কাছে সুরেশ চৌধুরি শুধুই স্নেহবৎসল পিতামহ যিনি তাঁকে শৈশবে ঘোড়া কিনে দিয়েছিলেন।

[আরও পড়ুন: শতবর্ষে ইস্টবেঙ্গলের স্পর্ধার ১০ মাইলস্টোন জানলে আপনারও গর্ব হবে]

স্মৃতি বড় বিদ্রোহ করে আজ। তিরাশি বছরের দেবেশ চৌধুরি এখন সব কিছু ঠিকঠাক মনে করতে পারেন না। দীর্ঘ জরা-ব্যাধি শরীরের প্রায় সব শক্তি কেড়ে নিয়েছে। ছিনিয়ে নিয়েছে স্মৃতিশক্তিও। পাশ থেকে সহধর্মিনী সামলানোর ব্যর্থ চেষ্টা করেন প্রৌঢ় দেবেশকে, “বারবার এত কাঁদছ কেন? সব গুছিয়ে বলো। দাদু তোমাকে এত ভালবাসত। মনে নেই, ঘোড়া কিনে দিয়েছিল তুমি চড়বে বলে?” ‘দাদুর ভালবাসা’ শব্দবন্ধ শুনে ঈষৎ সম্বিৎ ফেরে যেন। দেবেশ আচমকা বলতে শুরু করেন, “এই যে বাড়িটা দেখছেন, এর নিচেরই একটা ঘরে ইস্টবেঙ্গল প্লেয়াররা থাকতেন ক্লাব তৈরির সময়। দাদু তাঁদের খাওয়াদাওয়া থেকে শুরু করে জামাকাপড়, যৎসামান্য অর্থে সব কিছুরই ব্যবস্থা করেছিলেন।”  খুব বেশি দিন সুরেশ চৌধুরিকে দেখার সু়যোগ হয়নি পৌত্র দেবেশের। ন’দশ বছর বয়স যখন, দাদু প্রয়াত হন। “ছেলেবেলায় দারুণ যে ইস্টবেঙ্গল নিয়ে কথা হত, তা নয়। তবে এটা ঠিক যে ছোট থেকে তন্ত্রীতে ঢুকে গিয়েছিল ইস্টবেঙ্গল।”
“আমাদের বাড়ির পিছনেই জোড়াবাগান ক্লাব। সেখানে ১৯২০ সালে একজন প্লেয়ার ছিলেন নসা সেন। উনি খুব প্রিয় ছিলেন দাদুর,” স্মৃতির সরণি ধরে হাঁটতে শুরু করেন দেবেশ। “ সেই সময় জোড়াবাগান ক্লাব থেকে একদিন নসা সেনকে বাদ দেওয়া হয়। দাদু তখন জোড়াবাগানের ভাইস প্রেসিডেন্ট। নসা সেনকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে জোড়াবাগান থেকে ইস্তফা দেন দাদু। তার পর নসা সেনকে নিয়ে চলে যান কুমোরটুলিতে। ওখানে একজনের সঙ্গে আলোচনা করে দাদু ঠিক করেন যে, নতুন ক্লাব গড়বেন। নাম ঠিক হয়, ইস্টবেঙ্গল!”
লাল-হলুদের প্রথম সব কিছুর কাহিনিও বড় রোমাঞ্চকর। জার্সি বাছাই থেকে শুরু করে টাকা জোগাড়, সব কিছু। শোনা গেল, ধর্মতলার এক দোকান থেকে জার্সি বাছাই হয়েছিল ইস্টবেঙ্গলের। সুরেশ চৌধুরির একটা রং দেখামাত্র পছন্দ হয়ে গিয়েছিল, লাল-হলুদ। কিন্তু যতগুলো জার্সির প্রয়োজন ছিল, প্রথমে তা পাওয়া যায়নি। “দোকানে গিয়ে বাকি জার্সির অর্ডার দিয়ে এসেছিলেন দাদু। আর ইস্টবেঙ্গল প্লেয়ারদের থাকা—খাওয়া, টাকাপয়সা জোগাড়, সব কিছুই দাদু করেছিলেন পারিবারিক সম্পত্তির নিজের ভাগ দিয়ে,” বলছিলেন দেবেশ। একশো বছর পর ব্যক্তি সুরেশ চৌধুরির অবয়বও তো দৃশ্যমান হয়, পৌত্রের জবানবন্দিতে। সঙ্গীতপ্রিয় সুরেশ চৌধুরি। মহানুভব সুরেশ চৌধুরি। শোনা গেল, বাঁশি বাজাতে খুব ভালবাসতেন লাল-হলুদের প্রতিষ্ঠাতা। যাঁকে রাজা উপাধি দিতে চেয়েছিল ব্রিটিশ রাজ। সুরেশ চৌধুরি নেননি। বলে দেন, ‘আমাকে নয়। উপাধি আমার দাদা সতীশ চৌধুরিকে দিন। ব্রিটিশরাজ রাজা উপাধি দিতে চায়নি। সতীশ চৌধুরিকে দিয়েছিল রায়বাহাদুর উপাধি।
ইস্টবেঙ্গলের শতবর্ষে কেমন লাগছে? প্রতিষ্ঠাতার পৌত্রের সোজা সাপ্টা জবাব,  “জ্যোতিষ গুহর সময় ইস্টবেঙ্গল ক্লাব দেখার মতো ছিল। গটগট করে মাঠে ঢুকে পড়তেন। সেই আমল আর কোথায় এখন? সেই প্রাণ কোথায়?” বৃহস্পতিবারের শতবর্ষ অনুষ্ঠানে যাবেন না? উত্তরে হাহাকার ভেসে আসে, “জানি না পারব কি না। শরীর দেবে কি না।”


এ কলকাতা কেমন যেন অচেনা! শহরে পা দিয়েই সমর্থকদের ভিড়ে স্মৃতিমেদুর মজিদ বাসকর

দুলাল দে: সত্যি সত্যিই দেখছি তো! সাদা টি-শার্ট আর ধূসর কটন ট্রাউজার দমদম বিমানবন্দরের বাইরে বেরিয়ে আসছেন।
মজিদ বাসকর! আশির বাদশা-র পা ফের শহরে। তিন দশক বাদে আবার। 
যিনি দোহা টু কলকাতা উড়ান ধরার কিছুক্ষণ আগে তেহরান এয়ারপোর্টের লাউঞ্জে বসে তাঁর এবারের ময়দান আবির্ভাবে প্রথম কোনও ভারতীয় সংবাদপত্রে দীর্ঘ সাক্ষাৎকার দিলেন ‘সংবাদ প্রতিদিন’-কে। কলকাতায় নামার পরেও ফোনে উত্তর দিলেন একটা প্রশ্নের।

[আরও পড়ুন:কোফির পাঁচ গোলে ডুবল নেভি, ডুরান্ডে বড় জয় মহামেডানের]

প্রশ্ন: শেষ পর্যন্ত ফিরলেন কলকাতায়?
মজিদ: আমি একাই নই। আমার দুই ভাইপো ফরিদ আর আহমেদ-ও এসেছে। তো দমদম এয়ারপোর্ট থেকে হোটেলে আসার মধ্যেই ওদের বলছিলাম, আরে এ কোন কলকাতা? পঁয়ত্রিশ বছর আগে আমি যে শহরটা ছেড়েছি তার কোনও মিলই নেই। কোনও কিছুই তো চিনতে পারছি না।
(এর আগে সব প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন তেহরান বিমানবন্দর থেকে)
প্রশ্ন: কেমন লাগছে আবার কলকাতায় আসতে? 
মজিদ: জানেন কলকাতা জার্নিতে শেষ মুহূর্তে যাতে কোনও সমস্যায় না পড়ি তার জন্য কাল রাতেই খোরামশর থেকে তেহরানে চলে এসেছি। ভাইপো বলছিল, সকালে তেহরান পৌঁছলেও হবে। আমি ঝুঁকি নিতে চাইনি। কোনও কারণে ডোমেস্টিক ফ্লাইট যদি না উড়ত!
প্রশ্ন: ফোনেই গলা শুনে মনে হচ্ছে আপনি দারুণ উত্তেজিত?
মজিদ: কিন্তু সেই তো মুশকিলে পড়ে গেলাম। 
প্রশ্ন: কেন? কী হল আবার?
মজিদ: ইমিগ্রেশন মিটিয়ে-টিটিয়ে যখন বোর্ডিংয়ে এগোচ্ছি ঘোষণা হল, দোহার ফ্লাইট চার ঘন্টা লেট। তবে ওখান থেকে কলকাতার ফ্লাইট অনেক দেরিতে থাকায় যা রক্ষে। নইলে কী হত কে জানে!

[আরও পড়ুন:চট্টগ্রামে শেখ কামাল কাপ খেলবে মোহনবাগান, সম্মতি ক্লাবকর্তাদের]


প্রশ্ন: আপনার সফর সঙ্গী তো তিন জন।
মজিদ: দেখুন ইরানে মনে হয় সবাই চায় একবার ভারত ঘুরে দেখতে। ইস্টবেঙ্গল সেন্টেনারিতে যে মুহূর্তে আমার কলকাতায় আসা ফাইনাল হল, ভাইপো ফরিদ বায়না ধরল, আমার সঙ্গে যাবে। ওর খুড়তুতো ভাই সেটা শুনে বলল, সেও আসতে চায় ভারতে। আর ইয়েজদানি হচ্ছে ফরিদের বন্ধু। আসলে ইস্টবেঙ্গল ফের আমাকে কলকাতায় চায় সেটা ইয়েজদানিই আমাকে জানিয়েছিল। 
প্রশ্ন: আপনি বেঁচে আছেন কি না, সেটাই কলকাতায় আমরা একটা সময় পর্যন্ত জানতাম না। আর সেই আপনি মজিদ বাসকর আবার কলকাতায়! 
মজিদ: আমিও আশা করিনি ফের ইস্টবেঙ্গল ক্লাবে যাওয়ার সুযোগ পাব। জানতামই না, আমাকে ওরা এখনও মনে রেখেছে। কত সব পুরনো স্মৃতি মনে পড়ছে। আচ্ছা, অরুণ ভট্টাচার্য এখনও ক্লাবে আসেন?
প্রশ্ন: আপনাকে যে ইস্টবেঙ্গল কর্তা আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নিয়ে এসেছিলেন তাঁর কথা বলছেন?
মজিদ: হুম।
প্রশ্ন: উনি মারা গিয়েছেন। ওঁর অবশ্য ছেলে আছেন।
মজিদ: আমি তো এখন ইস্টবেঙ্গলের প্রায় কাউকেই চিনব না। তো ও এলে দেখা হবে।
প্রশ্ন: হোয়াটসঅ্যাপে দেখছি আপনি সাদা টি-শার্ট। আপনার ভাইপোর গায়েও তাই। সাদা রঙের কোনও বিশেষ কারণ রয়েছে কি?
মজিদ: সাদা রং ভাল লাগে। একটা শুদ্ধতার ব্যাপার আছে। আসলে কত দিন পর আবার কলকাতা! দুর্দান্ত অনুভূতি হচ্ছে। ইস্টবেঙ্গল যখন বলল আমাকে নিয়ে যেতে চায়, শুরুতে আমি খুব একটা আগ্রহী ছিলাম না। এখন কারা ক্লাবে আছেন জানি না। কলকাতায় জামশিদ (নাসিরি) ছাড়া আর কোনও ইরানি বন্ধুও নেই আমার। জামশিদের সঙ্গেও তো প্রায় বছর পঁচিশ দেখাসাক্ষাৎ নেই। তা হলে কাদের ভরসায় যাব? তারপর ভাইপো ফরিদ সমস্ত খোঁজখবর নিয়ে বলল, আমার জন্য ইস্টবেঙ্গল ফ্যানরা নাকি এখনও পাগল। ওরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে ইস্টবেঙ্গলে আমাকে আবার একবার দেখতে। তখন মনে হল আমার আর একবার ইস্টবেঙ্গল ক্লাবে যাওয়াটা দরকার। আচ্ছা, পিকে কেমন আছেন?
প্রশ্ন: অসুস্থ । তবে ১ অগাস্ট ইস্টবেঙ্গলের শতবার্ষিকী অনুষ্ঠানে এসেছিলেন।
মজিদ: ইস্টবেঙ্গলে আমার কোচের সঙ্গে এতদিন পর দেখা হলে খুব ভাল লাগবে। মনোরঞ্জনের (ভট্টাচার্য) সঙ্গে এর মধ্যে একদিন ফোনে কথা হয়েছে। ওরা সবাই হয়তো এত বছরে কত না বদলে গিয়েছে! কী জানি এখন গিয়ে চিনতে পারব কি না। সেই পুরনো ইস্টবেঙ্গল ক্লাব এখন কীরকম হতে পারে মনে মনে কল্পনা করছি।
প্রশ্ন: আপনি কি কলকাতায় নেমেই ইস্টবেঙ্গল ক্লাবে যেতে চান?
মজিদ: প্রথমে সেরকমই ভেবেছিলাম। পরে ক্লাবকে জানিয়েছি, সারারাত জেগে কলকাতা পৌঁছব। তাই রবিবার বিশ্রাম নিয়ে সোমবার আমার পুরনো ক্লাবে যেতে চাই। আমার সেই ১২ নম্বর জার্সি পরে অন্তত কিছুক্ষণের জন্য মাঠেও নামতে চাই। তেহরান এয়ারপোর্ট থেকে যে ছবিগুলো আপনাকে হোয়াটসঅ্যাপ করেছি, দেখলেই বুঝতে পারবেন আমার বয়স হয়েছে। চুলে পাক ধরেছে। এই বয়সে সারারাত বিমানযাত্রা করে কলকাতা পৌঁছে পরের দিনই বল নিয়ে মাঠে নামতে পারব না (হাসি)। 
প্রশ্ন: চুলে পাক ধরেছে। কিন্তু ছবি তো বলছে আপনার শরীর এখনও টানটান। 
মজিদ: ইরানের একটা ছোট ক্লাবে এখনও ট্রেনিং করাই। তাই ফিট আছি। তবে কলকাতায় আমি ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের কন্ট্রোলে। ওরা যখন যেখানে যেতে বলবে, সেটাই ফলো করব।

[আরও পড়ুন:উত্তপ্ত আবহেই আজ লিগ অভিযান শুরু ইস্টবেঙ্গলের, দল নিয়ে চিন্তায় আলেজান্দ্রো]


প্রশ্ন: তা হলে কলকাতায় পুরনো স্মৃতি ঝালাতে কোথায় কোথায় যাবেন কিছু ঠিক করেননি?
মজিদ: না। তবে ভাইপোদের ইচ্ছে একবার গোয়া ঘুরতে যাবে। কলকাতার কাজ শেষ করে দিনকয়েকের গোয়া যাব। আমার সফরসঙ্গীরা সব সলমন খানের ফ্যান। ওদের ইচ্ছে গোয়া যাওয়ার পথে একবার মুম্বই ঘোরারও। দেখা যাক কী হয়। 
প্রশ্ন: তাই? ডিসেম্বরে ইস্টবেঙ্গলের অনুষ্ঠানে সলমন খানের আসার কথা আছে।
মজিদ: ইস্! এখন এলে আমার ভাইপোরা দেখা করতে পারত। আচ্ছা, মঙ্গলবার যে অনুষ্ঠানে আমি যাব সেখানে আমাকে দেখতে লোক আসবে তো?
প্রশ্ন: কী বলছেন? আপনাকে এক ঝলক দেখার জন্য এখানে সবাই মুখিয়ে রয়েছে।
মজিদ: জানেন আমি শুধু ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের কাছে জানতে চেয়েছিলাম, কোন হোটেলে আমি থাকব? ওরা যে নাম-ঠিকানা পাঠিয়েছে, মনে হচ্ছে আমি যে হোটেলটার কথা ভাবছি এটা সেটাই। আমার চেনা হোটেল। কলকাতায় খেলার সময় বহুবার সেটার পাশ থেকে গিয়েছি। ওইটুকুই এখনও আমার যা চেনা মনে হচ্ছে এত বছর বাদে কলকাতার (হাসি)!

মজিদকে এখনও ভোলেনি কলকাতা

মজিদকে এখনও ভোলেনি কলকাতা

রাতুল ঘোষ: ১৯৮০ সালের এপ্রিল মাসের ঘটনা। সেদিন পয়লা বৈশাখের সকালে ইস্ট বেঙ্গল মাঠ লোকে লোকারণ্য। বারপুজো ফি-বছরই হয় দুই প্রধানের মাঠে। কিন্তু এমন ভিড় সচরাচর দেখা যায় না। লাল-হলুদ জনতার আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু এক ইরানি বিশ্বকাপার। নাম মজিদ বাসকার। মাঠ খালি করতেই বেশ কিছুটা সময় লেগে গেল। অবশেষে তাঁকে সামনে রেখেই ইস্ট বেঙ্গল ফুটবলাররা মরশুমের প্রথম প্রভাতী অনুশীলনে মাঠে নামলেন।
কথায় বলে, ‘পহেলে দর্শনধারী, উসকে বাদ গুণবিচারি।’ প্রথম দর্শনেই মজিদ সমীহ আদায় করে নিলেন। টকটকে গায়ের রং। ব্যাক ব্রাশ করা ঘন কালো চুল। যেন বলিউডের ‘বীরু’ ধর্মেন্দ্র।
সেবার ইস্ট বেঙ্গলের ১৪ জন ফুটবলার একসঙ্গে সুরজিৎ সেনগুপ্তের নেতৃত্বে লাল-হলুদ শিবির ছেড়ে বেরিয়ে যান। অধিকাংশেরই গন্তব্য ছিল সাদা-কালো তাঁবু। উল্লেখযোগ্যদের মধ্যে থেকে যান স্রেফ তিনজন— মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য, সত্যজিৎ মিত্র ও হরজিন্দার সিং। আর বুড়ো হাড়ে ভেলকি দেখাতে মোহন বাগান ছেড়ে ইস্ট বেঙ্গলে এসেছিলেন মহম্মদ হাবিব ও অন্যতম সেরা রাইট ব্যাক সুধীর কর্মকার।
তার আগের মরশুমে অর্থাৎ ১৯৭৯ সালে তখনকার দিনে ১৪ লক্ষ টাকা বাজেটে (বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী ১৫ কোটিরও বেশি) ফুটবল টিম গড়েও একটাও ট্রফি পাননি তৎকালীন ইস্ট বেঙ্গল সচিব নিশীথ ঘোষ। দলে বাঙালি-অবাঙালি দ্বন্দ্ব লাল-হলুদের টিম স্পিরিটের বারোটা বাজিয়ে দেয়। গুরুদেব সিং, দেবরাজ, ম্যাচাডোরা ইস্ট বেঙ্গল ছেড়ে পাড়ি দেন ভিন রাজ্যে।
আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মজিদ ও জামশিদকে ইস্ট বেঙ্গলে এনেছিলেন তৎকালীন লাল-হলুদের সহ সচিব অরুণ ভট্টাচার্য। মোহন বাগানকে ১৯৭৬ থেকে ১৯৭৯ পর্যন্ত তুমুল সাফল্য এনে দিয়ে সেবার ১৯৮০ সালে ইস্ট বেঙ্গলে প্রত্যাবর্তন করেন ভারতীয় ফুটবলে সবচেয়ে সফল ক্লাব কোচ পিকে ব্যানার্জি। সেবার পিকে’র কপালে চাঁদ হয়ে দেখা দেন মজিদ বাসকার। মোহন বাগানের লেফট ব্যাক দিলীপ পালিতও সেবার দলবদল করে ইস্ট বেঙ্গলে আসেন। আর মহমেডান থেকে আসেন বর্ষীয়ান লতিফুদ্দিন।
১৯৮০-র গ্রীষ্মে ইডেন উদ্যানে ফেডারেশন কাপের আসর ছিল জমজমাট। এই টুর্নামেন্টেই কলকাতা ময়দান প্রথম ‘মজিদ ম্যাজিক’ প্রত্যক্ষ করেছিল। ‘ডাউন দ্য মিডল’ স্কিলের ঝলক ছড়িয়ে মজিদের চোখ ধাঁধানো দৌড়গুলো এখনও চোখে লেগে রয়েছে। সেবার ফেড কাপ ফাইনালে মোহন বাগান দূর্গের অতন্দ্র প্রহরী সুব্রত ভট্টাচার্যের সঙ্গে মজিদের ডুয়েল কলকাতার ফুটবলপ্রেমীরা তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করেছিলেন। মাঠে মজিদকে দেখে মনে হতো যেন ‘গ্যালপিং মেজর’। কি স্ট্রাইড! দৌড়ে ছিল এক আশ্চর্য ছন্দ। সেবার ফেড কাপ ফাইনাল অমীমাংসিত থাকায় দুই প্রধানকে যুগ্ন চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করেছিল এআইএফএফ। এছাড়া সেবার রোভার্স কাপেও মহমেডান স্পোটিংয়ের সঙ্গে যুগ্মজয়ী হয়েছিল ইস্ট বেঙ্গল। ১২ নম্বর জার্সি পরা মজিদ লাল-হলুদ জনতার হৃদয়ের মণিকোঠায় চিরস্থায়ী আসন পেয়েছিলেন। একই সঙ্গে উল্লেখযোগ্য, কলকাতা ফুটবলের এক কলঙ্কিত অধ্যায়েরও সাক্ষী মজিদ বাসকর। ১৯৮০ সালের ১৬ আগস্ট ইডেনে ডার্বি ম্যাচে রনজি স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে দুই বড় ক্লাবের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে পদপিষ্ট হয়ে মারা গিয়েছিলেন ১৬ জন নির্দোষ ফুটবলপ্রেমী। যাদের স্মরণে আজও আইএফএ প্রতি বছর ১৬ আগস্ট পালন করে ফুটবলপ্রেমী দিবস। 
দৈব দুর্বিপাকে ও আত্মিক পদস্খলনে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে কয়েক মরশুম কলকাতায় কাটিয়ে মজিদ ইরানে ফিরে যান। তখন তিনি ভাঙাচোরা মানুষ। কিন্তু কলকাতা এখনও মনে রেখেছে মজিদের ফুটবল শিল্পকে। ১৯৭৮ সালে ইরানের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে স্থান পাওয়া মজিদ ইস্ট বেঙ্গলের শতবর্ষে রবিবার ভোরে আবার কলকাতায় আসছেন। লাল-হলুদপ্রেমীরা তাঁকে প্রত্যক্ষ করবেন মঙ্গলবার বিকেলে নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে। শহরে সুস্বাগতম ইরানি বাদশা।

বন্ধু জামশিদকে দেখে আবেগে ভেসে গেলেন মজিদ বাসকার

বন্ধু জামশিদকে দেখে আবেগে ভেসে গেলেন মজিদ বাসকার

 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দীর্ঘদিন পর প্রিয় বন্ধু জামশিদ নাসিরিকে দেখে আবেগতাড়িত একদা ইস্ট বেঙ্গল জনতার নয়নের মণি মজিদ বাসকার। রবিবার বিকেলে জামশিদ নাসিরি হোটেলে গিয়ে দেখা করেন প্রিয় বন্ধুর সঙ্গে। এক সঙ্গে প্রায় আধ ঘণ্টা কাটান। সেখানে আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের দিনগুলি থেকে ময়দানে টানা চার বছর খেলার অভিজ্ঞতা নিয়ে তাঁদের মধ্যে নানা কথা হয়। ১৯৮০ ও ১৯৮১ সালে মজিদ ও জামশিদ একসঙ্গে খেলেছিলেন ইস্ট বেঙ্গলে। ১৯৮২ ও ১৯৮৩ সালে তাঁরা কালো-সাদা জার্সি গায়ে একসঙ্গে খেলেছিলেন। ১৯৮৫ সালে জামশিদ ইস্ট বেঙ্গলে চলে গেলেও মজিদ আরও দু’বছর ছিলেন মহমেডান স্পোর্টিংয়ে। তবে শারীরিক অসুস্থতার জন্য ১৯৮৬ সালে আর তেমনভাবে খেলতে পারেননি মজিদ। এদিনের স্মৃতিচারণায় উঠে আসে কলকাতায় তাঁদের প্রথম ঠিকানা নটরাজ বিল্ডিংয়ের কথাও। জামশিদ বলছিলেন,‘প্রায় আড়াই দশক বাদে দেখা হল। মজিদের চেহারায় অনেক পরিবর্তন হয়েছে। পুরানো দিনের অনেক কথাই হল।’
ঠিক ঠিক বিচারে মজিদ ও জামশিদের কলকাতায় প্রথম ক্লাব হওয়ার কথা ছিল মহমেডান স্পোর্টিং। সুলেমান খুরশিদ, হায়দার আলি নস্করদের বিরুদ্ধে ১৯৮০ সালের দলবদলের আগে এরফান তাহের- গোলাম মুস্তাফারা (মামা) হাড্ডাহাড্ডি নির্বাচনে জিতে যান। ১৯৭৯ সালে ইস্ট বেঙ্গলের বাঙালি ফুটবলারদের সঙ্গে ভিনরাজ্যের খেলোয়াড়দের বিবাদের ফলে ১৯৮০ সালে ভাস্কর গাঙ্গুলি, প্রশান্ত ব্যানার্জি, সুরজিৎ সেনগুপ্তসহ সাত-আটজন ফুটবলার চলে যান মহমেডান স্পোর্টিংয়ে। তাই এরফান তাহের প্রথম সুযোগেই দারুণ দল গড়েছিলেন। আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আসা মজিদ-জামশিদ সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়ে দারুণ খেলছেন সেই খবর ছিল মহমেডান শিবিরের পরাজিত গোষ্ঠীর কাছে। তাঁরাই ইস্ট বেঙ্গলের তৎকালীন সহ সচিব অরুণ ভট্টাচার্যকে সন্ধান দিয়েছিলেন মজিদ- জামশিদের। লাল-হলুদে ওই দুই বছর মজিদ- জামশিদকে দেখাশোনা করতেন রাজশাহীর ছিন্নমূল পরিরার থেকে ক্লাব প্রশাসনে উঠে আসা অরুণ ভট্টাচার্য, ক্লাবের অন্দরে যিনি পরিচিত ছিলেন ‘মধুদা’ হিসাবে।
মজিদের সঙ্গে এসেছেন তাঁর এজেন্ট। আছেন ভাইপোরাও। মজিদের রবিবার হোটেলেই বিশ্রাম নেওয়ার কথা ছিল। সন্ধ্যার পর তিনি সিসিএফসি ক্লাবে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। টপ ফর্মে অনেক সময়ে এই ক্লাবেই বাড়তি প্র্যাকটিস করতেন তিনি এবং জামশিদ। শেষোক্তজন তো সিএফসি ফুটবল টিমের সঙ্গে জড়িত। আইএফএ’তে জামশিদ সিএফসি’র সরকারি প্রতিনিধি। বন্ধুর সাহচর্যে রবিবারের সন্ধ্যা বেশ ভালোই কাটল মজিদের।
দমদম বিমানবন্দরে তেহরান থেকে আসা বিমানটির নামার কথা ছিল রাত ২.২০ মিনিটে। কিন্তু ফ্লাইট দেরি থাকায় রাত সোয়া তিনটে নাগাদ তেহরান থেকে আসা বিমানটি দমদম বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সিকিউরিটি চেকিংয়ের পর ভোর পৌনে চারটা নাগাদ তিনি দমদম বিমানবন্দর থেকে বের হতেই উদ্বেলিত জনতা জয়ধ্বনি দিতে থাকে তাঁর নামে। বেশ কিছু সমর্থক তাঁর কাছাকাছি চলে আসেন। বেশি রাতে দমদম বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কিছুটা ঢিলেঢালা ছিল। নিরাপত্তাহীনতার জন্য আবার ভিতরে ঢুকে যান তিনি। এর কিছুক্ষণ পরে আবার বেরিয়ে ভোর রাতে মধ্য কলকাতার হোটেলে ওঠেন ‘আশির বাদশা’।

সুব্রত ভট্টাচার্যই আমার বিরুদ্ধে খেলা সেরা ডিফেন্ডার: মজিদ বাসকর

পিকে ব্যানার্জি বড় বেশি কথা বলতেন
সুব্রত ভট্টাচার্যই আমার বিরুদ্ধে খেলা সেরা ডিফেন্ডার: মজিদ বাসকর
জয় চৌধুরি

 এতদিন পর কলকাতায় এলেন। রবিবার গিয়েছিলেন টপ ফর্মে থাকাকালীন আড্ডার জায়গা সিসিএফসি’তে। আপনার অনুভূতি কীরকম?
মজিদ: কলকাতায় ফের আসব তা আমি এক বছর আগে স্বপ্নেও ভাবিনি। এই বছরের গোড়ায় নতুন করে যোগাযোগ হয়। ইস্ট বেঙ্গলের শতবর্ষে আসার ব্যাপারে ক্লাব থেকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। আমি প্রথমে খুব একটা সিরিয়াস ছিলাম না। কিছুদিনের মধ্যে কর্তাদের পাশাপাশি বেশ কিছু সমর্থকেরও ফোন পেলাম। মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য আর জামশিদও ফোন করেছিল। ভাইপো ফেসবুক দেখে বলল, কলকাতার ফুটবল অনুরাগীরা তোমাকে দেখতে মুখিয়ে আছে। তাই চলে আসার সিদ্ধান্ত নিলাম।
 কলকাতা কতটা বদলেছে?
মজিদ: খুব বেশি ঘুরে দেখার সুযোগ হয়নি। আমাদের টপ ফর্মে কলকাতায় এত গাড়ি ছিল না। আর এত ওভারব্রিজও দেখিনি। ফ্লাইওভার-ওভারব্রিজই আমার চোখ টেনেছে। জামশিদের মুখেই শুনলাম, যমুনা সিনেমা হল বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা। ওই হলে অনেক সিনেমা দেখেছিলাম। 
 কলকাতায় ছয়-সাত বছরের ফুটবল জীবনে আপনার প্রতিপক্ষ হিসাবে সেরা ডিফেন্ডার কে?
মজিদ: নিঃসন্দেহে সুব্রত ভট্টাচার্য। তবে মনোরঞ্জন ভট্টাচার্যও বেগ দিয়েছে। মহমেডান স্পোর্টিংয়ে খেলার সময়ে প্রতিপক্ষ হিসাবে ওকে পেয়েছি। এই তালিকায় প্রদীপ চৌধুরিও থাকবে। ও আমার চেয়েও জামশিদের পিছনে বেশি লেগে থাকত। তবে সুব্রত একটু ‘ঝামেলাবাজ ’হলেও প্রচণ্ড বুদ্বিদীপ্ত ছিল (এরপর টেবলে রাখা কফির ফ্লাস্কের ঢাকনা-বোতলের ছিপি দিয়ে বুঝিয়ে দিলেন সুব্রত তাঁকে কীভাবে গার্ড করতেন)। সুব্রত পিছন থেকে সহ খেলোয়াড়দের বলত ‘মজিদ, মজিদ’। 
 আপনার সেরা টুর্নামেন্ট কোনটি?
মজিদ: অবশ্যই ১৯৮০ সালের ফেডারেশন কাপ। রাজনীতি আমি পছন্দ করি না। কিন্তু ১৯৭৯ সালে রাজনীতিই হয়েছিল লাল-হলুদ ফুটবল টিমে। ১৯৮০ সালে ইস্ট বেঙ্গলের সাত ফুটবলার চলে গিয়েছিল মহমেডান স্পোর্টিংয়ের। এখনও মনে আছে মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য প্রচণ্ড মানসিক যন্ত্রণায় ভুগছিল। আমি, জামশিদ ও খাবাজি তখন ইস্ট বেঙ্গলে নতুন এসেছি। দলটিকে দাঁড় করাতে আমরা তিনজন বড় ভূমিকা দিয়েছিলাম। আমি ও জামশিদ ছোটবেলা থেকে একই ক্লাবে খেলেছি। তেহরানে আমরা খেলতাম ৪-৩-৩ ছকে। কিন্তু কলকাতায় এসে দেখলাম ৪-৪ -২ ছকে খেলা হচ্ছে। প্রথমে ভড়কে গিয়েছিলাম। আমি হাবিবকে নীচে নেমে আসতে বলি। কোচ পি কে ব্যানার্জি ৪-৪-২ ছকে খেলালেও আমরা চলে যেতাম ৪-৩-৩ ছকে। অনেক ম্যাচে সমর ভট্টাচার্য নামার পর সুধীর কর্মকারও ব্লকারের কাজ করেছে। সেই জন্য টিম ভেঙে খানখান হয়ে গেলেও আমরা ১৯৮০ সালে ডিসিএম ফাইনাল ছাড়া আর কোনও টিমের কাছে হারিনি। ফেড কাপে গ্রুপ লিগের সব ম্যাচ জিতে উঠেছিলাম ফাইনালে। শেষ পর্যন্ত মোহন বাগানের সঙ্গে যুগ্মজয়ী হয় ইস্ট বেঙ্গল। ইডেনে ফেড কাপ আমাকে প্রতিষ্ঠা দিয়েছে।’
 সেরা ডার্বি কোনটি?
মজিদ: ভারতে একটা প্রচলিত ধারণা আছে মোহন- ইস্ট ম্যাচে কোনও দল দু’গোলে লিড নিলে সেই দলই জিতবে। ১৯৮০ সালে দার্জিলিং গোল্ড কাপের ফাইনালে মোহন বাগান দু’গোলে এগিয়ে গিয়েছিল। পুজোর মুখে টুর্নামেন্ট। ইস্ট বেঙ্গল ২-০ গোলে পিছিয়ে আছে দেখে দ্বিতীয়ার্ধে কলকাতা থেকে যাওয়া অনেক সমর্থক ঘুরতে চলে যায়। সেই দৃশ্যই তাতিয়ে দিয়েছিল আমাকে। শেষ ২০ মিনিটে তিনটি গোল করেছিলাম আমরা। ওটাই সেরা ডার্বি। জামশিদও দারুণ খেলেছিল ওই ম্যাচে (ওই ঐতিহাসিক ম্যাচে মজিদ গোল না করলেও তাঁর পাস থেকে সিডি ফ্রান্সিস, সোমনাথ ব্যানার্জি, জামশিদকে দিয়ে গোল করেন)। এর পাশাপাশি ১৯৮০ সালের রোভার্স কাপে মোহন বাগানের বিরুদ্ধে ডাবল লেগ সেমি-ফাইনালের কথাও বলতে হবে। প্রথম লেগে মোহন বাগান দু’গোলে লিড নিলেও ম্যাচ শেষ পর্যন্ত ২-২ হয়ে গিয়েছিল। পরদিন পিছিয়ে পড়েও জিতেছিলাম আমরা। ওই প্রতিযোগিতায় নিয়মিত খেলা দেখতে আসতেন বলিউডের নামী অভিনেতা দিলীপকুমার। ওঁর সঙ্গে ওখানেই প্রথম আলাপ। ফাইনালে মহমেডানের মুখোমুখি হই আমরা। সেই ম্যাচেও ছিলেন দিলীপকুমার। প্রচণ্ড প্রশংসা করেছিলেন আমার খেলার। আর ১৯৮৪ সালে মহমেডানকে রোভার্সে চ্যাম্পিয়ন করার পর দিলীপকুমার প্রচণ্ড খুশি হয়েছিলেন। সেই স্মৃতি এখনও আমার মনে আছে। মাঝের ৩০ বছর ভারতীয় ফুটবল সম্বন্ধে যে প্রচুর খোঁজ খবর রেখেছি তা নয়। তবে কলকাতায় আসার পর সবকিছু মনে পড়ে যাচ্ছে। মনে হচ্ছে, এখানেই ফের থেকে যাই। কিন্তু তা আর সম্ভব নয়। তেহরানে বেসরকারী সংস্থায় কাজ করি দায়িত্বপূর্ণ পদে। দিন পাঁচেকের ছুটি নিয়ে এসেছি। ইদ থাকায় আমার কাজের চাপও কম। এই কথোপকথনের মাঝেই পিকে’র সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলেন মজিদ।
 পি কে ব্যানার্জি সম্বন্ধে আপনার ধারণা কী?
মজিদ: দেখুন, ট্রফির সংখ্যা যদি একজন সফল কোচের মাপকাঠি হয়, তবে পিকে ব্যানার্জিই সেরা কোচ। তবে উনি বড় বেশি কথা বলতেন। ওঁর কোচিংয়ে ভোকাল টনিক বেশি, টেকনিক্যাল ব্যাপার কম। ১৯৮০ সালে ৪-২-৪ পদ্ধতিকে ভেঙে ৪-৩-৩ করার প্রস্তাব ছিল আমার। হাবিব ও খাবাজি সেই প্রস্তাবকে সমর্থন করে। পরে উনি এই ফর্মেশন বদলের কৃতিত্ব নেন। একদিন পিকে বলেছিলেন, তোমাদের দেশের রেভেনিউশনারি নেতা আয়াতুল্লা খোমেইনির চেয়েও এই দেশে আমার জনপ্রিয়তা বেশি। আমি হলাম ভারতীয় ফুটবলের সুপার পাওয়ার। আমি যা বলছি শোনো।
 খাবাজি-সানজারি এখন কী করেন?
মজিদ: খাবাজি তেহরানে কোচিং করাচ্ছে। সানজারি আছে দুবাইয়ে। বিগ বিজনেসম্যান।
 ১৯৭৮ সালের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে থেকেও খেলতে পারেননি। আর ইরানের ফুটবল এখন কোন পথে?
মজিদ: বিশ্বকাপে এক মিনিট খেলতে না পারার দুঃখ তো আছেই। তবে টিমের সঙ্গে বিশ্বমঞ্চে ছিলাম। সেটাও গর্বের। সেবার আমাকে কেন খেলানো হয়নি জানেন? কারণ, তখন আমার বয়স মাত্র ২০ বছর। তার আগের বছরই আমি ইরানের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে এশিয়া কাপে খেলেছি। এখন তো আন্তর্জাতিক ফুটবলে ২০ বছরের ছেলেরাই তারকা হয়ে যাচ্ছে। ফিল ফোডেন, জ্যাডন স্যাঞ্চো তার জ্বলন্ত উদাহরণ। তবে সেবার খেলার সুযোগ পেলে আমার হয়তো কলকাতায় আসা হত না। অন্য কোনও দেশে চলে যেতাম! সবই ভবিতব্য। এই যে কলকাতায় আমার কেরিয়ার দীর্ঘায়িত হতে পারত, কিন্তু হল না। সেটা রাজনীতির পাকচক্রে। বিস্তারিতভাবে কিছু বলতে চাই না। আর ইরানের ফুটবল? সাতের দশকে ইরানের যা মান ছিল সেই অনুসারে আমরা এগতে পারিনি। জাপান-কোরিয়া এগিয়ে গিয়েছে। ইরানের ফুটবলের অগ্রগতি অনেকটা ভারতের মতোই। ছয়ের দশকে কত ভালো জায়গায় ছিল ভারতীয় ফুটবল! শুনলাম এখন দুই প্রধানেই স্প্যানিশ কোচ। আমি একটু বিস্মিতই।
 মোহন বাগানে খেলতে না পারার জন্য কোনও আক্ষেপ?
মজিদ: ১৯৮১ সালে মোহন বাগান কর্তারা আমার কাছে এসে বলেছিলেন, তোমার জন্য আমরা ক্লাবের সংবিধান পরিবর্তন করতে রাজি। আমাকেও টলিয়ে দিয়েছিল সেই কথা। তবে ইস্ট বেঙ্গলের রিক্রুটাররা অনেক বেশি চালাক। অরুণ ভট্টাচার্য আমাকে সরিয়ে দেন গোপন স্থানে। তাছাড়া সেই বছর মোহন বাগানে অন্তর্দলীয় কোন্দলও ছিল। মোহন বাগানে না খেলা নিয়ে তেমন কোনও আক্ষেপ নেই।
 পেলে ও মারাদোনার মধ্যে কীভাবে তুলনা করবেন আপনি? লায়োনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর মধ্যে সেরা কে?
মজিদ: পেলেই সেরা। কারণ ওঁর ধারাবাহিকতা সবথেকে বেশি। তিনবার বিশ্বকাপ জেতা মুখের কথা নয়। তবে মারাদোনা ওই রকম ছোট চেহারা নিয়ে বিশ্ব ফুটবলকে মাত করে দিয়েছিলেন। আমি মারাদোনারও গুণমুগ্ধ। আর ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর থেকে লিও মেসিকেই আমার বেশি ভালো লাগে। ব্যাক্তিগত স্কিলের বিচ্ছুরণ ওর মধ্যেই বেশি।
 গ্রিজম্যান, মহম্মদ সালাহ এবং নেইমারের মধ্যে ভবিয্যতের সুপারস্টার কে?
মজিদ: আমার মনে হচ্ছে গ্রিজম্যান সকলকে টপকে যাবে। নেইমারের প্যারিসে খেলতে যাওয়াটা ভুল। মো সালাহর চেয়ে গ্রিজম্যান সব ব্যাপারেই এগিয়ে।


ফ্ল্যাটে ফিরে অভিশপ্ত বড় ম্যাচে মৃত্যু মিছিলের কথা শুনেছিলেন মজিদ

 ফ্ল্যাটে ফিরে অভিশপ্ত বড় ম্যাচে মৃত্যু মিছিলের কথা শুনেছিলেন মজিদ

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা:১৯৮০ সালে ১৬ আগস্ট অভিশপ্ত বড় ম্যাচে যে ১৬ জন ফুটবলপ্রেমী মারা গিয়েছিলেন সেটা মজিদ জানতে পারেন ইডেন থেকে লাল-হলুদ তাঁবু ঘুরে লর্ড সিনহা রোডের ফ্ল্যাটে ফিরে। ইস্ট বেঙ্গল তাঁবুতে সরকারি প্রেস কনফারেন্সে মজিদ বললেন,‘মাঠে খেলায় একাত্ম হয়ে গিয়েছিলাম। গ্যালারির একটি অংশে গণ্ডগোল হয়েছিল। কিন্তু সেই ভাবে গুরুত্ব দিইনি। লর্ড সিনহা রোডের এক কিমির মধ্যে এসএসকেএম হাসপাতাল। এক প্রতিবেশি এসে বললেন, ইডেনে গ্যালারিতে ঝামেলায় অনেকে মারা গিয়েছেন। পরে শুনলাম ১৬ জন মারা গিয়েছেন। লিগ পরিত্যক্ত হয়ে গিয়েছিল। খুবই খারাপ লেগেছিল আমাদের।’
সোমবার বিকেল চারটা নাগাদ বৃষ্টির মধ্যেই ইস্ট বেঙ্গল তাঁবুতে দীর্ঘ ৩৩ বছর পর ঢুকলেন মজিদ বাসকর। ক্লাব তাঁবুতে তখন প্রায় হাজার খানেক সমর্থক। মিডিয়া প্রতিনিধির সংখ্যা প্রায় একশো। ইস্ট বেঙ্গল তাঁবুতে এসে ক্লাবের পরিকাঠামো দেখে চমকে যান ইস্ট বেঙ্গল সমর্থকদের বাদশা। ক্লাবের অফিস ঘরে বসে তিনি মনে করার চেষ্টা করছিলেন তাঁদের আমলে ড্রেসিংরুম কোথায় ছিল? সভাপতি- সচিবরাই বা কোথায় বসতেন? ড্রেসিংরুম- কনফারেন্স হল ঘুরে দেখেন। লাল হলুদের গ্রাউন্ড স্টাফ হিসাবে শঙ্করবাবাকে (শঙ্কর মালি) তিনি ভালোভাবেই মনে রেখেছেন। সেই সঙ্গে তাঁর মুখে ছিল রামু মালির কথা।
মজিদের মুখে শোনা গেল রিপন স্ট্রিটের ভিতরে লি রেস্টুরেন্টের ফিস ফ্রাইয়ের কথা। তখন এগ রোল-চাইনিজ ফুডের এত কদর কলকাতা শহরে ছিল না। মজিদ জানালেন,‘ ইলিশ মাছ ইস্ট বেঙ্গল সমর্থকদের প্রিয় হলেও আমার খুব ভালো লাগত না।’ সরকারি প্রেস কনফারেন্সেও মজিদ প্রায় আধ ঘণ্টা কথা বলেন। বাইরে তখন ইস্ট বেঙ্গল জনতা উদ্বেল হয়ে উঠেছে। প্রেস কনফারেন্স থেকে তাঁকে সরাসরি মাঠে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু প্রেস কনফারেন্সে যেমন পাবলিক অ্যাড্রেস সিস্টেম ছিল না, তেমনি মাঠে ছিল না প্রয়োজনীয় সংখ্যক পুলিশ। জনাচারেক বাউন্সার ভিড় সামলাতে পারেনি। ‘মবড’ হওয়ার আশঙ্কায় কিছু গিয়ে মজিদ ফিরে আসেন তাঁবুতে। ৫০ মিনিট পর লালবাজার ও ময়দান থানা থেকে ফোর্স আসার পর সন্ধ্যা ছ’টা নাগাদ মজিদ বাসকর প্রায় ৩৪ বছর পর ইস্ট বেঙ্গল তাঁবুতে ঢুকলেন শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে। ফুটবলারদের জন্য রাখা বেঞ্চের উপরে উঠে অভিবাদন গ্রহণ করলেন সমর্থকদের। দুই সমর্থক মজিদের হাতে তুলে দেন উপহার।
মঙ্গলবার প্রয়াত সচিব পল্টু দাসের জন্মদিন। এই দিনটি ক্রীড়া দিবস হিসাবে পালন করা হয়। সকালে ক্লাব তাঁবুতে হবে পতাকা উত্তোলন। তারপর ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে রক্তদান শিবির। রক্তদাতারা পাবেন সুলে মুসার সই করা সার্টিফিকেট। বিকেলে নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে সংবর্ধনা জানানো হবে ইস্ট বেঙ্গলের জীবিত ৫০ জন অধিনায়ক ও ২৪ জন জীবিত কোচকে। লাল-হলুদের হয়ে ২০০৭ সালে ফেডারেশন কাপ জয়ী কোচ সুব্রত ভট্টাচার্যকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এমনকি ইস্ট বেঙ্গলের সংক্ষিপ্ততম সময়ের কোচ মৃদুল ব্যানার্জি এবং মোহন বাগানের বর্তমান সহকারী কোচ রঞ্জন চৌধুরিও ইস্ট বেঙ্গলে স্বাধীন দায়িত্বে ছিলেন। তাঁরাও আমন্ত্রিত। প্রাক্তন অধিনায়ক এবং কোচরা পাবেন রুপোর তৈরি গোল্ড প্লেটেড মুদ্রা। দুপুর দুটোয় হবে প্রাক্তনদের ম্যাচ। মজিদকেও নামানোর চেষ্টা চলছে। এই ম্যাচে প্রবেশ অবাধ। ইতিমধ্যেই কলকাতায় এসেছেন ইলিয়াস পাশা, সঞ্জু প্রধানরা। আসছেন আর্মান্দো কোলাসোও।
মঙ্গলবার ইস্ট বেঙ্গল শতবার্ষিকী মঞ্চে সংবর্ধিত হবেন প্রসিদ্ধ সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়, বিখ্যাত নাট্য ব্যক্তিত্ব রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্ত এবং নামী চিত্র পরিচালক তরুণ মজুমদার। সঙ্গীত পরিবেশন করবেন নচিকেতা ও ইমন চক্রবর্তী। সংবর্ধনা দেওয়া হবে পঞ্চপান্ডবদের পরিবারকে।
জামশিদের সই করা সার্টিফিকেট ফুটবলপ্রেমী দিবসে: আগামী ১৬ আগস্ট ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে আইএফএ এবং ভলান্টিয়ার্স ব্লাড ডোনার্স সংস্থার যৌথ উদ্যোগে পালিত হবে ফুটবলপ্রেমী দিবস। জামশিদ নাসিরির সই করা সার্টিফিকেট পাবেন রক্তদাতারা।

সুব্রতর প্ররোচনায় কখনও পা দিইনি: মজিদ

সুব্রতর প্ররোচনায় 
কখনও পা দিইনি: মজিদ

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিস্তর কথা চালাচালির পর সোমবার রাত বারোটায় মজিদ বাসকর মহমেডান স্পোর্টিং কর্তাদের জানিয়ে দেন মঙ্গলবার সকাল সাড়ে নয়টা নাগাদ তিনি তাঁদের তাঁবুতে যাবেন। তাই মাত্র দশ ঘণ্টার প্রস্তুতিতে মহমেডান স্পোর্টিং বরণ করে নিল আটের দশকের মধ্যভাগের এই মহাতারকাকে। মহমেডান কর্তারা মিডিয়াকে মজিদ বরণের কথা জানান মঙ্গলবার ভোরে।
স্বাধীনতা দিবসের কুচকাওয়াজের মহড়ার জন্য রেড রোড বন্ধ থাকায় মজিদ অবশ্য মহমেডান তাঁবুতে পৌঁছান বেলা এগারোটা নাগাদ। রেড রোডে সাধারণ মানুষের চলাচলের উপর কিছুটা বিধিনিষেধ থাকায় খুব বেশি সমর্থক মজিদকে দেখতে তাঁবুতে উপস্থিত ছিলেন না। কিন্তু মজিদের চোখে সমকালীন সেরা ডিফেন্ডার সুব্রত ভট্টাচার্য মহমেডানের কোচ হওয়ায় আধ ঘণ্টার এই অনুষ্ঠানটি আলাদা মাত্রা পেয়ে যায়। আশির দশকের প্রথম পাঁচ-ছয় বছর মজিদ-সুব্রতর ‘ডুয়েল’ নিয়ে অনেক গল্পই প্রচলিত আছে। সেটা মঙ্গলবার দুজনেই খোলাখুলিভাবে স্বীকারও করলেন।
দীর্ঘ তিন দশক পর দেখা হতেই সুব্রত জড়িয়ে ধরেন মজিদকে। সেই আলিঙ্গনের মধ্যে উষ্ণতা ছিল। মজিদের সামনে মোহন বাগান জনতার হৃদয়ের ছেলে বাবলু ছিলেন অকপট। ইরানি তারকাটির সামনেই সুব্রত বলেন, ‘১৯৮০ সালের ফেড কাপ ফাইনালে ফুটবল মাঠে প্রথমবার মজিদের মুখোমুখি হয়েছিলাম। একটি লুজ বলের জন্য দুইজনেই দৌড় শুরু করি। আমাকে টপকে চলন্ত বলে ফ্লিক করে হাবিবকে বল দিয়েছিল মজিদ। তখনই বুঝেছিলাম আমাকে রীতিমতো বেগ দিতে মজিদ এসেছে কলকাতায়। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে দেখলাম মজিদ আমাকে ‘ঝামেলাবাজ’ বলেছে। সঠিক কথাই বলেছে। ওর ব্যক্তিগত নৈপুণ্য এতটাই বেশি ছিল, আমাকে অনেক ম্যাচেই ওর বিরুদ্ধে শুধুই টাফ নয়, রাফ ফুটবল খেলতে হয়েছে। কিন্তু মজিদের মাথা এতটাই ঠান্ডা ছিল কখনও মাথা গরম করেনি। নিজের উপর এতটাই আত্মবিশ্বাস ছিল কার্ডও সেইভাবে দেখত না। ফুটবলের বেসিক ছিল দারুণ। আউট স্টেপে রিসিভিং ছিল দেখার মতো। অত্যন্ত ফ্যান্সি ফুটবলার। রাফ ট্যাকল করলে আমাকে বলত এটা কী হচ্ছে?’
পাশে বসা মজিদ বাসকরের মুখে তখন অমায়িক হাসি। সুব্রতকে ছোটভাই বলে সম্বোধন করে মজিদ বলেন,‘ঝামেলা করে আমাকে প্ররোচিত করতে চাইত। আমি কখনই সেই প্ররোচনায় পা দিইনি। মহমেডান স্পোর্টিং আমার কাছে সেকেন্ড হোম। এখানে এসে মনে হচ্ছে অনেক দিন পর বাড়িতে ফিরলাম। ১৯৮৭’তে আমি সেইভাবে খেলিনি। তবুও মেসে থাকতে দিয়েছিল এই ক্লাব। আমাদের সময়ে ক্লাবটি এত সাজানো- গোছানো ছিল না। তবে ইস্ট বেঙ্গলের ড্রেসিংরুম প্রশস্ত হলেও মহমেডান ড্রেসিংরুম সেই ছোটই থেকে গিয়েছে।’ মজিদের হাতে স্মারক,শাল তুলে দেন মহমেডান সচিব ও ফুটবল টিমের ম্যানেজার। এক ভক্ত তাঁর হাতে তুলে দিয়েছেন নিজের হাতে আঁকা একটি ছবি। তবে মজিদের এত প্রশংসা করলেও সুব্রত তাঁকে ভারতে খেলা সেরা বিদেশি বলতে নারাজ। এই প্রশ্নে একটু অন্যভাবে তিনি বলেন, ‘খেলার সৌন্দর্যে মজিদই সেরা। তবে সার্বিক কার্যকারিতায় এগিয়ে এমেকা। আর ধারাবাহিকতায় অবশ্যই এগিয়ে ব্যারেটো।’