Monday, 24 August 2015

ভদকার দশ জানা -অজানা গুণ

ভদকার দশ জানা -অজানা গুণ

By Partha Pratim Chandra | Last Updated: Tuesday, August 18, 2015 - 18:11
কড়া মদের মধ্যে ভদকা বিশ্বে সবচেয়ে জনপ্রিয়। জল ও ইথাইল অ্যালকোহলের সাথে বিভিন্ন প্রকার ফ্লেভার মিশ্রিত করে ভদকা তৈরি হয়। সিরিয়াল, রাই, গম, আলু, মিষ্টি আলু, বা চিটাগুড় যে-কোনো একটির গাজনকৃত তরল থেকে ভদকা তৈরি করা সম্ভব।
ভদকায় অ্যালকোহলের উপস্থিতি সাধারণত শতকরা ৩৫ থেকে ৫০ ভাগের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। রাশিয়ান, লিথুনিয়ান, পোলীয় ভদকার ক্ষেত্রে এর আদর্শ পরিমাণ মোট আয়তনের শতকরা ৪০ ভাগ (৮০% প্রুফ)।
আসুন জেনে নিই ভদকার জানা অজানা দশ গুণ--
১) ভদকায় চিনি মিশিয়ে ছেটালে ফুল সতেজ থাকে।
২) জলের সঙ্গে ভদকা মিশিয়ে লাগালে চশমার কাঁচ খুব তাড়াতাড়ি দারুণ পরিষ্কার হয়
৩) গদি, তোশক বা ম্যাটট্রেসের জীবাণুমুক্ত হয় ভদকার দ্বারা।
৪) রুপোর গয়না পালিশ করে ঔজ্বল্য বাড়াতে ভদকা ব্যবহার করা হয়।
৫) ব্যান্ড-এইড চামড়ার সঙ্গে এমনভাবে আটকে গিয়েছে যা তোলা বেশ কষ্টকর হচ্ছে? তুলোয় করে ভদকা লাগিয়ে দিলে তা সহজেই উঠে যায়
৬) জামা কাপড়ের দুর্গন্ধমুক্ত করতে দারুণ সাহায্য করে
৭) চুল পরিষ্কারে এর কোনও তুলনা হয় না
৮)  ঘরে মাউথওয়াশ তৈরি করতে ভদকার জুড়ি মেলা ভার
৯) ঘরে খুব পোকামাকড় হয়েছে? ভদকা স্প্রে করলে সব পালাবে।
১০) কালো কাপড়ের রঙ একদম ঠিক রাখতে জলের সঙ্গে ভদকা মিশিয়ে লাগালে খুব কাজে লাগে।
(এ ছাড়াও রান্নাঘর পরিষ্কার করতে, জানলা-দরজা মুছতে, আইসপ্যাক তৈরি করতে, ওভেন পরিষ্কার করতে, চটচটে জিনিস তুলতে সাহায্য করে ভদকা)।



http://zeenews.india.com/bengali/lifestyle/vodka-uses-that-you-might-not-have-heard-before_130680.html

Maharashtra's 'Mountain Man' built 40km roads in 57 years

Maharashtra's 'Mountain Man' built 40km roads in 57 years


Maharashtra's 'Mountain Man' built 40km roads in 57 years
Bhapkar worked for 57 years which resulted in 7 roads.

MUMBAI: From Ahmednagar district in Maharashtra comes the story of another 'Mountain Man', who like the more famous Dashrath Manjhi, took on the task of cutting hills to build roads.

The 84-year-old Rajaram Bhapkar, a former teacher at Gundegaon village in Ahmednagar district, has cut through seven hills in last 57 years to make 40-km roads and is a respected across the region for his feat.

Bhapkar, known affectionately as 'Bhapkar Guruji', looks a simple villager, clad in a white shirt and pajama and sporting a 'Gandhi' cap. However, beneath that simplicity lies a steely resolve, which moved the mountains, literally.

"At the time of Independence, there was not even a 'paywat' (walking trail) connecting Gundegaon to adjoining village," Bhapkar, who has studied till seventh standard in Modi language, said.


When Bhapkar, who worked in zilla parishad school between 1957 to 1991, was working at Kolegaon, people from his villages had to cross three villages to reach there.

Bhapkar remembers asking government authorities to build a road cutting across the 700 meter high Santosha hill.

With no help forthcoming, he embarked on a journey of grit and determination, which 57 years later would result in seven roads, altogether 40km long, linking his village to the adjoining villages.

Earlier, the route to Kolegaon via Deulgaon was 29km long. The distance became just 10km after Bhapkar, through sheer grit, cut through the hill and made a kuchcha road.

He paid wages from his pocket to those who accompanied him in the road work.

"I used to spend half my salary on their wages," Not a single rupee from the government has been spent on the road work," he adds.

"In 1968 not even a cycle could pass through the earlier walking trail. Now, big vehicles ply on this road," a villager said.

He completed the road in 1997.

Bhapkar said he spent his entire post retirement earning and pension to fund the road work. Besides working with spade and shovel, he also hired heavy duty excavator machines for expediting the road work.

http://timesofindia.indiatimes.com/city/mumbai/Maharashtras-Mountain-Man-built-40km-roads-in-57-years/articleshow/48652628.cms?utm_source=facebook.com&utm_medium=referral&utm_campaign=TOI

Thursday, 20 August 2015

20 Everyday Things We Never Knew Had A Name

20 Everyday Things We Never Knew Had A Name

August 19, 2015
We do a lot of things in our daily routines. But do you know we don’t know what half of these things we see, do or simply overlook are called? Take a look at 20 everyday things you never knew actually had names.

#1

Everyday Things

#2

Everyday Things

#3

Everyday Things

#4

Everyday Things

#5

Everyday Things

#6

Everyday Things

#7

Everyday Things

#8

Everyday Things

#9

Everyday Things

#10

Everyday Things

#11

Everyday Things

#12

Everyday Things

#13

Everyday Things

#14

Everyday Things

#15

Everyday Things

#16

Everyday Things

#17

Everyday Things

#18

Everyday Things

#19

Everyday Things
Youtube

#20

Everyday Things
All images have been sourced from Thinkstock Photos/Getty Images unless mentioned otherwise.
Originally published on MensXP

http://www.indiatimes.com/lifestyle/self/20-everyday-things-we-never-knew-had-a-name-244336.html


Saturday, 15 August 2015

তামাশা বা কবিতার ঝাঁজ

তামাশা বা কবিতার ঝাঁজ

১৫ অগস্ট, ২০১৫





সে  এক কেলেংকারিয়াস কাণ্ড! এক ঝাঁক মার্কিনি বোমারু বিমান বোঁ বোঁ করে উড়ে চলেছে সাবেক সোভিয়েত রাশিয়ার দিকে। উদ্দেশ্য বিলকুল সাফসুতরো! ‘কমি’ ব্যাটাদের বড্ড তেল বেড়েছে। ওদের দু-একটা এলাকা তাক করে দু-চার পিস নিউক্লিয়ার বোমা টপকে দিয়ে চলে আসতে হবে। মার্কিন রাষ্ট্রপতির ওয়ার-রুম থেকে ফোন করা হল রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রীকে।
সে এক দুর্ধর্ষ ফোনালাপ! রাশিয়ান দূতমশাই মার্কিনবাবুকে হুঁশিয়ারি দিয়েই রেখেছিলেন, এত রাত্তিরে ক্রেমলিনের প্রাসাদে আমাদের ‘লাল’ জার-বাহাদুর গলা অবধি ভদকা গিলে বেশ একটু টানুস-টুনুস আছেন। আমেরিকার ‘ইনি’ ফোনটা হাতে নিয়েই সেটা মালুম পেলেন। কয়েক বার থতমত আর হোঁচট খেয়ে, একটু কিন্তু-কিন্তু করে শেষে বলেই ফেললেন, ভাই দিমিত্রি, তোমার মিউজিক সিস্টেমের আওয়াজটা একটু না কমালে তো আমার কোনও কথাই শুনতে পাবে না! ঠান্ডা যুদ্ধের সেই কনকনে ওয়েদারে, কূটনৈতিক রসালাপে খানিকটা আপন-আপন ভাব, একটু উষ্ণতার ছোঁয়া আনতেই রুশ প্রধানমন্ত্রীর পয়লা নাম ধরে এত ডাকাডাকি।

‘দ্য গ্রেট ডিক্টেটর’ ছবির দৃশ্য
পরিচালক স্ট্যানলি কুব্রিক-এর ১৯৬৪ সালের ছবি ‘ডক্টর স্ট্রেঞ্জলাভ অর: হাউ আই লার্নড টু স্টপ ওরিং অ্যান্ড লাভ দ্য বম্ব’-এ, দুই সাংঘাতিক শক্তিশালী দেশের দুই রাষ্ট্রপ্রধান, কে কম ‘হ্যালো’ বলেছেন, বা কে বেশি ‘সরি’ হলেন, তাই নিয়ে রীতিমত ঠোঁট ফুলিয়ে ফোনে মান-অভিমান করছেন! সোভিয়েত নেতার মান ভাঙাতে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বাবা-বাছা তোয়াজ করছেন, আবার দিমিত্রির খোঁচা-মারা বাঁকা কথায় প্রেসিডেন্ট সাহেবের গলা আবেগে ধরা-ধরা, সেন্টিমেন্টে স্যাঁতসেতে। আর এই মানভঞ্জন-পালার ফাঁকেই রাশিয়ার আকাশে চক্কর কাটছে আমেরিকান বোমারু! ও দিকে রাশিয়ার তরফেও পালটা ‘ডুম্‌স ডে মেশিন’ রেডি হয়েই আছে। আমেরিকা-সুদ্ধ গোটা পশ্চিমি দুনিয়াকে শ্মশান বানাতে যার লাগবে মাত্র কয়েকটা সেকেন্ড।
যে পাগলাটে বেস-কম্যান্ডার রাশিয়ায় বোমা ঝাড়ার সিগনাল পাঠিয়েছে, পৃথিবী-কুখ্যাত সিরিয়াল কিলারের নামেই তার নাম জ্যাক ডি রিপার! আর তার এয়ারবেস-এর দেওয়াল, দরজা, সাইনবোর্ডে জ্বলজ্বল করছে ঘোষণা: ‘পিস ইজ আওয়ার প্রফেশন’! সেই ‘পেশা’র ইজ্জত রাখতেই প্লেনের পকেটে ‘শান্তির বাণী’ নিয়ে রাশিয়ার মগজে ঢেলে আসার উড়ানের দায়িত্ব যার, কুব্রিক তার মাথায় পাইলটের হেলমেটের বদলে একটা কাউবয়-টুপি পরিয়ে দেন। আমেরিকার ‘বীর’ কিনা!
ছবিটার মস্ত নামেই মালুম, পরিচালকের টার্গেটটা কী। রাশিয়া-আমেরিকা মিলে সারা ক্ষণ এই যুদ্ধ-যুদ্ধ ভাব জিইয়ে রাখা, রোজ রোজ বেশি বেশি মানুষ খুন করার নিত্যনতুন অস্ত্রের সফল পরীক্ষা, আর পৃথিবীসুদ্ধ মানুষের সেটাকে মুখ বুজে গা-সওয়া করে ফেলা— ঠান্ডা যুদ্ধের এই পুরো ব্যাপারটাকেই কুব্রিক তুমুল তুখড় ঠাট্টায় এতোল-বেতোল করে দিয়েছেন।
অনেক সময়েই, কোনও প্রতিবাদেই যাকে খুব একটা ঘায়েল করা যাচ্ছে না, তুমুল হাসিঠাট্টা তাকে অনেকটা পেড়ে ফেলে। তামাশা অনেক সময় ক্ষমতাবানের চোখে চোখ রেখে বলতে পারে, তুমি একটি ধুর্‌-ফুটো রংবাজ— পাঁচপেঁচি পাবলিকের সঙ্গে তোমার কিস্যু ফারাক নেই! ঠান্ডা যুদ্ধের ভরা বাজারে কুব্রিক যে ভাবে ওয়াশিংটন আর মস্কোকে নিয়ে মশকরা করলেন, আড়াই দশক আগে সে ভাবেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ঘাড়ের ওপর নিয়ে নাত্‌সি জার্মানি আর তার সর্বশক্তিমান ‘ফুয়েরার’ হিটলারকে স্রেফ সার্কাসের ক্লাউন বানিয়ে ছেড়েছিলেন চার্লস চ্যাপলিন। ’৬৪-তে কুব্রিক যখন ‘ডক্টর স্ট্রেঞ্জলাভ’ বানাচ্ছেন, তখন তাঁর মাথায় হয়তো দুই বছর আগের কিউবা সংকট, মিসাইল-ঘাঁটি বসানো নিয়ে রুশ-আমেরিকা ইগোর দড়ি-টানাটানির ব্যাপারটা ছিল। কিন্তু ‘দ্য গ্রেট ডিক্টেটর’-এ চার্লি ‘হয়তো’, ‘হতেও পারে’ গোছের আড়াল-আবডাল রাখেননি। সরাসরি হিটলার ও ফ্যাসিবাদই এখানে তাঁর চাঁদমারি। বিশ্বযুদ্ধ শুরুর দু-তিন সপ্তাহের মধ্যে এ ছবির শুটিং শুরু হচ্ছে, আর যখন ১৯৪০-এর অক্টোবরে ছবি মুক্তি পাচ্ছে, তত দিনে অর্ধেক ইউরোপ নাত্‌সি বুটের তলায়।
এই জায়গায় দাঁড়িয়ে চ্যাপলিন হিটলার আর মুসোলিনির আদলে একটা হিংকেল আর একটা নাপালোনিকে নিয়ে আসছেন। এবং দর্শকের সামনে প্রমাণ করে দিচ্ছেন, চেয়ারের লিভার ঘুরিয়ে দুজন দুজনকে ছাড়িয়ে যতই ওপরে ওঠার চেষ্টা করুক না কেন, ডিক্টেটররা আসলে নেহাতই খাটো মাপের লোক। ভিতু, মেগালোম্যানিয়াক। পৃথিবীসুদ্ধ লোককে ভয় খাওয়ানো মহান ডিক্টেটরবাবু বেলুনের গ্লোব নিয়ে লোফালুফি খেলতে খেলতে যখন ফটাস করে ফাটিয়ে ফেলে, তখন ছোট বাচ্চাদের মতোই ফ্যাঁচফ্যাঁচ ফোঁতফোঁত করে কান্না জোড়ে। চ্যাপলিন তো এটাই চাইতেন! ক্ষমতাকে যতটা পারো, হাস্যকর, ল্যাজে-গোবরে, ভাঁড় বানাও! ওর ফোলানো-ফাঁপানো পাবলিক ইমেজের হাওয়া বের করে দাও! চ্যাপলিনের ভাষায়: ‘দ্য বিগার দ্যাট ফেলো গেট্‌স, দ্য হার্ডার মাই লাফটার উইল হিট হিম।’
যে রাজনীতি কোটি কোটি মানুষকে দুনিয়া থেকে স্রেফ মুছে ফেলতে চায়, তাকে নিয়ে শুধু ইয়ার্কি মারা যায় কি না, সে ব্যাপারে তর্ক চলতেই পারে। তবে ‘আল্‌ফাভিল’ ছবিটায় গোদার যখন একটা স্বৈরাচারী ব্যবস্থার মহড়া নেন, তখন ওপর-ওপর কোথাও কোনও ফাজলামির ব্যাপার থাকে না। বরং সায়েন্স ফিকশন, স্পাই থ্রিলার ইত্যাদি হলিউডের নানা রকম ফর্মুলা মশলা ঘেঁটেঘুঁটে শেষ অবধি গোদার যে পদটা বানান, সেটা একদম তাঁর নিজের ঘরানার কুটকুটে কালো কমেডি। আল্‌ফাভিল আসলে ভিন-গ্যালাক্সির একটা তারা। ‘আলফা-সিক্সটি’ নামে একটা সুপারকম্পিউটার সেখানকার সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করে। আর এই কম্পিউটারটা যিনি বানিয়েছেন সেই প্রফেসর ফন ব্রাউনই বকলমে এখানকার শাসক। ফন ব্রাউনের আপন দেশে প্রেম, কান্না, হাসি, এ সব বেফালতু আবেগ সব মানা। স্ত্রীর মৃতদেহের সামনে চোখের জল ফেললে গুলি করে মেরে ঝকঝকে সুইমিং পুলের টলটলে অ্যান্টিসেপ্টিক জলে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। এখানে সব কিছু যুক্তির নিয়মে চলে। ডিকশনারি থেকে প্রতি দিন পুরনো অকাজের শব্দ বাতিল করে কম্পিউটারের মর্জিমাফিক নতুন নতুন শব্দ যোগ হয়। ‘গ্র্যান্ড ওমেগা মাইনাস’ নামে যন্তরমন্তর ঘরে লোকেদের মগজধোলাই করে অন্য গ্রহে বন্‌ধ, হরতাল, বিপ্লব ইত্যাদি ঝামেলা পাকাতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
অনেকটা সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন বা পূর্ব ইউরোপের ‘লাল সাম্রাজ্য’র মতো মনে হচ্ছে তো? আসলে একনায়কতন্ত্র পার্টিরই হোক বা কম্পিউটারের, তার মোডাস অপারেন্ডি প্রায় একই রকম! মানুষের মগজ দখল করাটাই পয়লা লক্ষ্য। তাই এদের মোকাবিলাটাও মগজ দিয়েই করতে হয়। এখানে প্রফেসর ব্রাউন আর তার কম্পিউটার-রাজ খতম করতে যে সিক্রেট এজেন্টটি আল্‌ফাভিল-এ পা রাখে, একেবারে বন্ড-মার্কা এই লোকটি ঠাঁই-ঠাঁই-ঠাঁই-ঠাঁই-ঠাঁই করে পিস্তল চালাতে, চান্স পেলেই মেয়েমানুষ চেখে নিতে ওস্তাদ, কিন্তু আলফা-সিক্সটি’র সঙ্গে এনকাউন্টারে তার হাতিয়ার কবিতা! হ্যাঁ, কবিতা। কারণ, যুক্তি আর কার্য-কারণ বিশ্লেষণ দিয়ে সাজানো সুপারকম্পিউটারের প্রোগ্রাম-ভুবনে সেটা একেবারেই ‘ফোরেন মাল’! আবেগ-ফাবেগ, অনুভূতি-টনুভূতি, কী সব আজেবাজে অচেনা জিনিসে ঠাসা! সেই শত্রুকে বুঝে ওঠাই অসম্ভব আলফা-সিক্সটির পক্ষে, তাই মোকাবিলা করারও প্রশ্ন ওঠে না। ফলে তার সুপার-সিস্টেম পুরো ঘেঁটে-গুলিয়ে একশা হয়ে যায়। কম্পিউটারজি দেহ রাখেন। সেই বীর এজেন্টও প্রফেসর ব্রাউনের নাতাশাকে উদ্ধার করে ‘আউটল্যান্ড’-এর মুক্ত বিশ্ব, থুড়ি গ্যালাক্সির দিকে গাড়ি হাঁকিয়ে চলে যায়। আর ‘প্রেম’ শব্দের মানেই না বোঝা নাতাশাও যেতে-যেতে পথে ‘আই লাভ ইউ’ বলতে শিখে যায়।
‘আলফাভিল’-এর সঙ্গে চট করে এক নজরে আমাদের চেনা যে ছবিটার খানিকটা মিল পাওয়া যায়, ‘হীরক রাজার দেশে’। ওমেগা মাইনাস-এর মতো এখানেও ‘মস্তিষ্ক প্রক্ষালক যন্ত্র’, মগজধোলাইয়ের দৌরাত্ম্য। তবে ওই যন্ত্র আর তার মগজধোলাইয়ের মন্ত্রের কোনও পক্ষপাত নেই। যন্ত্রের স্রষ্টা ‘বৈজ্ঞানিক’ও আপাদমস্তক পেশাদার, তার কোনও দল নেই। তাই গুপি-বাঘা তাকে হাত করে ওই যন্ত্রে রাজার মন্ত্র পুরে দিতে পারে! এবং ফ্যাসিস্ট রাজা ও তার গোটা পুতুল-ক্যাবিনেটের মগজধোলাইয়ের পর সব্বাই মূর্তির মাঠে জড়ো হয়। আর জনগণের সঙ্গে হাত মিলিয়েই রাজা ‘দড়ি ধরে মারো টান’ বলে নিজেই নিজের মূর্তি ভেঙে খানখান করে। ‘দ্য গ্রেট ডিক্টেটর’-এর শেষে হিংকেল-এর জায়গায় তার ডুপ্লিকেট ইহুদি নাপিত শাসকের মঞ্চে উঠছে। কিন্তু আগের ডিক্টেটরের ওই লাফঝাঁপ, হুংকার, নাটকের বদলে সে নরম গলায় ধীরে ধীরে সাধারণ লোকের আশা, স্বপ্ন, আকাঙ্ক্ষার কথা বলে। মাত্র তিনটে শটে ক্যামেরার দিকে সোজাসুজি তাকিয়ে প্রায় ছ’মিনিটের সে বক্তৃতা কবিতার মতোই শোনায়। আর ‘আল্‌ফাভিল’-এ সিক্রেট এজেন্ট তো কবিতার ধাঁধাতেই স্বৈরাচারের বারোটা বাজায়। কিন্তু একনায়ক শাসকের নিজেরই মগজধোলাই হয়ে যাচ্ছে, এই আইডিয়ার জুড়ি নেই! নিজের মূর্তি টেনে নামানোর জন্য ফ্যাসিস্ট নায়কের হাতে দড়ি ধরিয়ে দেওয়াটা স্যাটায়ার হিসেবে মাস্টারস্ট্রোক, যেটা শুধু এক জন মাস্টারই দিতে পারেন। ফলে অ্যাডভান্টেজ সত্যজিত্‌ রায়! 

http://www.anandabazar.com/lorai/%E0%A6%A4-%E0%A6%AE-%E0%A6%B6-%E0%A6%AC-%E0%A6%95%E0%A6%AC-%E0%A6%A4-%E0%A6%B0-%E0%A6%9D-%E0%A6%9C-1.192809

বাবাকে ডিভোর্স দেব

বাবাকে ডিভোর্স দেব

১৫ অগস্ট, ২০১৫, 





প্যা ট্রিক হল্যান্ড যখন এই দাবি জানিয়েছিল, তার বয়স মোটে চোদ্দো। স্পষ্ট ভাষায় সে বলে দেয়, বাবার সঙ্গে কোনও সম্পর্কই আর রাখতে চায় না। মায়ের ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহটা এখনও তার চোখের সামনে ভাসে। নরম তুলতুলে শিশু-মনটা তো সেই দিন থেকেই জমে বরফ। সপ্তাহে এক বার কাউন্সেলিং হয় তার। ওই ঘটনাটার সময় কতই বা বয়স হবে প্যাট্রিক হল্যান্ডের? বছর আটেক। তার বাপ-মায়ের মধ্যে বনিবনা ছিল না। ফলে ম্যাসাচুসেট্স-এ কুইন্সি-র বাড়িটাতে মায়ের সঙ্গেই থাকত সে। হঠাৎ এক দিন সকালে ঘুম ভেঙে প্যাট্রিক দেখল পাশের ঘরে ঘুমন্ত মায়ের শরীরটা কে যেন ফুঁড়ে দিয়েছে বুলেট দিয়ে, থেঁতো করেছে প্রচণ্ড আক্রোশে। খুনি অবশ্য ধরা পড়ল। খুনি, ছেলেটার বাবা ড্যানিয়েল হল্যান্ড। যাবজ্জীবন কারাদন্ডের সাজা হল তার। কিন্তু একরত্তি ছেলেটা থাকবে কার কাছে? আইনি টানাপড়েনে নামল এক দিকে প্যাট্রিকের দাদু-ঠাকুমা, অন্য দিকে তার মায়ের এক বন্ধু ও তার পরিবার। শেষে মিটমাট একটা হল। আপাতত প্যাট্রিক থাকবে সেই বন্ধু-পরিবারের কাছেই। এ ব্যবস্থায় প্যাট্রিকও খানিক স্বস্তি পেল।
কিন্তু ড্যানিয়েল হল্যান্ড তো এমন সহজ সমাধানে তুষ্ট থাকার বান্দা নয়। জেলে বসেই চলল তার অবাধ খবরদারি। প্যাট্রিক অপ্রাপ্তবয়স্ক। সুতরাং আইনমাফিক বাবাই তার অভিভাবক। সেই মতোই খোঁজখবর চলতে লাগল, স্কুলে প্যাট্রিকের রিপোর্ট কেমন, সপ্তাহে এক বার তার যে কাউন্সেলিং হওয়ার কথা ছিল, সেগুলো কেমন চলছে। এর সঙ্গেই ড্যানিয়েল হাত বাড়াল স্ত্রীর সম্পত্তির দিকেও। একমাত্র ছেলের লালনপালন করতে হবে তো!
কিন্তু ড্যানিয়েলের অতি যত্নে বানানো ছকটা বানচাল হয়ে গেল। যার জন্য তার এমন ভয়ানক মাথাব্যথা, সেই চোদ্দো বছরের ছেলেই বসল বেঁকে। বাবার বুলেট মা’কে কেড়েছে তার কাছ থেকে। অথচ সেই খুনি বাবাকেই নাকি খাতায়-কলমে ‘অভিভাবক’ মানতে হবে! জানাতে হবে, সে অংক পরীক্ষায় কত নম্বর পেল, স্পোর্টসে আদৌ ভাল করতে পারছে কি না! কেন? কচিবেলাটাকে দু’হাতে আগলে একটু একটু করে বড় করে তোলার দায়িত্ব তো বাবা-মায়েরই হাতে। কিন্তু তারাই যখন সে পরীক্ষায় ডাহা গোল্লা খেয়ে বসে, তখনও কি তাদের বাবা-মা হয়ে থাকার অধিকার আছে? প্যাট্রিকের ডিভোর্স চাওয়ার মধ্যে এই প্রশ্নটাই ছুটে গিয়েছিল বিচারকদের কাছে।
এই মার্কিন মুলুকেরই আর এক শিশু গ্রেগরি কিংসলে আবার মুক্তি চেয়েছিল তার মায়ের কাছ থেকে। আদর নয়, গ্রেগরির গোটা ছেলেবেলাটা কেটেছে এক দিকে মা আর অন্য দিকে বাবার কাছে একটু নিশ্চিন্ত আশ্রয়ের খোঁজে দৌড়োদৌড়ি করে। বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ-শেষে সে তখন তার বাবার কাছে। বাবা অ্যালকোহলিক। মায়ের সঙ্গে গ্রেগরির যোগাযোগ রাখায় বিন্দুমাত্র আগ্রহী নয়। কিন্তু গ্রেগরি তার মায়ের কাছেই গেল। ওখানে তার দুটো ভাইও রয়েছে যে। কিন্তু আশ্রয় সেখানেও জুটল না। ড্রাগ-আসক্ত মা গ্রেগরিকে পাঠাল ‘বয়েজ শেল্টার’-এ। এখানেই জর্জ রাস-এর সঙ্গে দেখা হয় গ্রেগরির। তাঁর হাত ধরেই সে নিজের ছেঁড়াফাটা ছেলেবেলাটাকে কিছুটা জোড়া দেওয়ার চেষ্টা করে। জর্জ এবং তাঁর স্ত্রী গ্রেগরিকে দত্তক নেন এবং গ্রেগরি মায়ের সঙ্গে ডিভোর্সের আবেদন করে। জুভেনাইল কোর্টে বিচারপতি জানান, গ্রেগরির মা শুধু নিজের সন্তানকে চরম অবহেলাই করেনি, নিজের কাছ থেকে তাকে আলাদাও করে দিয়েছে। সুতরাং এখানেই তার অভিভাবকত্বের ইতি টানা বাঞ্ছনীয়। মামলা জিতে যায় গ্রেগরি। সে-ই প্রথম মার্কিনি খুদে, যে মাত্র বারো বছর বয়সে মায়ের সঙ্গে আইনি বিচ্ছেদ পেয়েছিল। মামলা জিতে সে উপহার পায় একটা টি-শার্ট। তাতে লেখা শন রাস, তার নতুন নাম। আর লেখা ‘৯’। রাস-পরিবারের নবম সন্তান যে সে।
এমন সব কাণ্ডকারখানার কথা জেনেশুনে আমাদের একটা বিরাট ধাক্কা লাগা স্বাভাবিক। ‘ডিভোর্স’ শব্দটাকে তার চেনা গণ্ডির বাইরে টেনে এনে এখানে এমন এক জন বা দু’জনের দিকে তাক করা হচ্ছে, যার বা যাদের সঙ্গে শিশুটির আজন্ম সম্পর্ক, রক্তের সম্পর্ক। বিশেষ করে মা’র সঙ্গে কোনও সন্তান স্বেচ্ছায় বিচ্ছেদ চাইতে পারে, মেনে নিতে কষ্ট হয় খুব। আমরা তো বিশ্বাস করি,  কুপুত্র যদি বা হয়, কুমাতা কখনও নয়। তাই পয়সা, বাংলো, গাড়ি, চাকর, ব্যাংক-ব্যালেন্স মিলিয়েও ‘মা’-র সমান ওজন মেলে না। আমাদের ধর্মগুরুরা উপদেশও দেন, মা-বাবাই ভগবান। মুশকিল হল, বহু মা-বাবা তা বোধ হয় জানে না। তাই শয়তানের মতো আচরণ করে। ছেলেকে টেবিল টেনিস প্লেয়ার বানাতে গিয়ে, তার গাফিলতি সহ্য না করতে পেরে তাকে পেটে আঘাত করে খুন করে ফেলে। বহু বাবা বাড়িতে এসে বাচ্চার সামনে মা’কে বেধড়ক পেটায়। অনেক সময় বাবা তার মেয়েকে দিনের পর দিন যৌন নির্যাতন করে। কখনও কিশোরী মেয়ে বেজাতে প্রেম করলে, সন্তানকে ‘অনার কিলিং’-এ নিকেশ করার পরিকল্পনাকে মা হইহই করে সাপোর্ট করে। এই সব ক্ষেত্রে, যে-ই সন্তানের জীবনকে নষ্ট করুক, মা বা বাবা, তার বিরুদ্ধে লড়াই চালানো যাবে না কেন? পাশ্চাত্যে এই লড়াইকে নিয়ে সিনেমাও হয়েছে।
আমাদেরও, ‘উড়ান’এর মতো ছবি হয়, যেখানে নৃশংস বাবার অত্যাচার থেকে ছোট্ট দুই ছেলেকে পালিয়ে বাঁচতে হয়। তারা কিন্তু আইনি লড়াইয়ের কথা ভাবতে পারেনি। এখানেই স্বাধীনতার প্রশ্নে অনেকটা এগিয়ে থাকে পশ্চিম। ভরা আদালতে, হাজার হাজার উৎসুক চোখের সামনে দাঁড়িয়ে মদ্যপ, খুনি, অত্যাচারী বাবা-মায়ের অভিভাবকত্বকে সপাটে অস্বীকার করার কলজে দেখাতে পারে তাদের কিছু কিছু ছেলেমেয়ে। তারা খোঁজ দেয় স্বাধীনতার এক অনাস্বাদিত দিকের, যেখানে দরকার পড়লে ত্যাগ করা যায় নিজের জন্মদাতা বাবা-মা’কেও। রক্তের সম্পর্কহীন মানুষদেরও বসানো যায় সবচেয়ে ভরসার জায়গা দুটোয়। স্বেচ্ছায়। 


http://www.anandabazar.com/lorai/poulami-das-chatterjee-writes-on-responsibility-of-parents-1.192800



সময় থেমে থাক

সময় থেমে থাক

১৫ অগস্ট, ২০১৫, 


সে খানে গেলে, মনে হবে সাদা-কালো স্ক্রিনে কোনও পিরিয়ড ফিল্ম চলছে। ঘোড়ায় টানা গাড়ি যাচ্ছে, খেতে গরু বা ঘোড়া জুতে হাল টানা হচ্ছে, ঘরে ঘরে গরুর ঘন দুধ থেকে টাটকা মাখন তৈরি হচ্ছে। একটু বেলা গড়ালেই মহিলারা বাড়ি থেকে বেরিয়ে খেতের দিকে যাবেন। সঙ্গের ঝুড়িতে খাবার। দুপুরের খাওয়াটা সবাই মিলে খেতেই সারেন ওঁরা। আর রোববার চার্চের ঘণ্টা বাজলেই সারা গ্রাম হাজির প্রার্থনাঘরে।
এঁরা হচ্ছেন ‘আমিশ’। সতেরো শতকের শেষ দিকে, সুইজারল্যান্ডে জেকব আম্মান নামে এক জন বলতেন, যিশুর কথা অক্ষরে অক্ষরে মানো। তার জন্য যদি বাইরের জগতের নানা প্রলোভনকে এক্কেবারে ছেড়েছুড়ে থাকতে হয়, তা-ই থাকো। আম্মান-এর অনুগামীদেরই আমিশ বলে। আঠেরো শতকের প্রথম দিকটায় আমিশরা ইউরোপ ছেড়ে আমেরিকার পেনসিলভানিয়া অঞ্চলে চলে আসেন। এখনও মধ্য আমেরিকার পেনসিলভানিয়া, ওহায়ো, ইন্ডিয়ানাতেই বেশির ভাগ আমিশ গ্রামগুলো দেখা যায়। তবে, কানাডার অন্টারিয়ো’র কাছেও কিছু আমিশ আছেন। এঁদের পণ, পূর্বপুরুষরা যে ভাবে বাঁচতেন, সেই ঐতিহ্যটাকে প্রাণপণে জিইয়ে রাখবেন। গ্রামের দরজার বাইরে উনিশ, বিশ, একুশ— যে শতকই চলুক না কেন, তার ছায়াটুকুও পড়তে দেবেন না নিজেদের শান্ত জীবনে।

‘আমিশ গ্রেস’ ছবির দৃশ্য
বাইরের কেউ কিন্তু আমিশ হতেই পারেন না। এই স্বপ্ন-চৌহদ্দিতে ঢুকতে গেলে ওই গোষ্ঠীতেই জন্মাতে হবে। চোদ্দো থেকে পঁচিশের মধ্যে চার্চের সদস্য হয়ে নিলেই এই স্পেশাল-জীবন শুরু। কতগুলো নিয়ম মেনে চলতে হবে শুধু। আমিশ গোষ্ঠীর মধ্যেই বিয়ে সেরে ফেলতে হবে। গ্রামের মধ্যেই এক-কামরার স্কুল। সেখানে ক্লাস এইট পর্যন্ত পড়ানো হয়। ব্যস, আর নয়। আমিশরা মনে করেন, বেশি জানলে গোল বাড়ে।
আর আমিশরা তো জীবন থেকে বেশি কিছু একটা দাবি করেন না। সবাই মিলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ফসল ফলিয়ে খান, নিজেদের আসবাবটা নিজেরাই কাঠ কেটে বানিয়ে নেন (বাইরের দুনিয়ায় এই আমিশ ফার্নিচারের ভীষণ কদর), হাতে হাতে তৈরি করেন কাপড়ের বই, বাগান সাজানোর উপকরণ আর রোজকারের পোশাক।
ওঁরা ইলেকট্রিসিটি থেকেও শত হস্ত দূরে। বলেন, ওই তার বেয়েই যত আপদ আমাদের স্বর্গরাজ্যে হানা দেবে। টিভি, সিনেমার চিৎকার, কম্পিউটারে খুটখাট, আরও একশো ঝামেলা। তার চাইতে এই ভাল। সূর্যের সঙ্গে ভোর ভোর উঠে কাজকর্ম, চাষ-আবাদ শুরু হয়ে যায়। আলো মরে এলে অল্পবিস্তর কৃত্রিম আলো জ্বলে ঠিকই, সে-ও যতটুকু না হলেই নয় ততটুকু। সোলার প্যানেল বসিয়ে সৌরবিদ্যুতে ঝটপট দরকারগুলো সেরে ফেলা হয়। সন্ধে শেষ হতে না হতেই ডিনার করে সকলে শুয়ে পড়েন।
আমিশ গ্রামের ত্রিসীমানায় ফোন, ক্যামেরাও ঢুকতে পায় না। ফোনের যুক্তি তো সব্বাই জানে। ক্যামেরাও মনের কোণে হীনম্মন্যতাকে ডেকে আনে। যে কারণে আমিশরা নিজেদের বাচ্চাদের জন্য যে পুতুলগুলো গড়ে দেন, সেগুলো স্রেফ কাপড়ের কাঠামো। তার চোখ-নাক, মুখ, ঠোঁট নেই। অর্থাৎ, সুন্দর-অসুন্দরের আইডিয়াটা মাথাচাড়া দেওয়ার আগেই তাকে পাড়াছাড়া করে আসেন।
হ্যাঁ, খটকা তো আছেই। কেউ বলতে পারেন, এ কেমন স্বাধীনতা? এ তো কালো কাপড়ে ঢাকা একটা খাঁচার মধ্যে বাঁচা। কেউ বলবেন,  এই অপাপবিদ্ধ ইডেন-বাগানে শয়তান যে তার সাপ ঢোকাবে না, নিশ্চয়তা কী? এই প্রসঙ্গে দু’একটা খবর শোনানোর আগে এটুকু জানাই, আমিশদের চার্চের নিয়মে মোকদ্দমা ঠোকাও মানা।
সেটা ভাল করে জেনেই অনেকে এ সব গ্রামে ঘুরঘুর করে। এক আমিশের সহায়সম্বল দুটো গরুই কিনে, টাকা না দিয়ে পালিয়ে যায় বাইরের এক বদমাশ। সেই বুড়োমানুষটা অসুস্থ, হাসপাতালে বিল চোকাতেও পারছেন না, তবু আইন-আদালতে যাবেন না। বেমালুম ক্ষমা করে দিলেন। সাগরপারে সুদীপ্ত সেনেরও অভাব নেই। মনরো নামের এক জনের মিছরি-কথায় ভুলে শ’য়ে শ’য়ে আমিশ পরিবার তার ফান্ডে টাকা রাখছিল। কয়েক মাস যেতেই বহু আমিশ জীবনের সঞ্চয় খুইয়ে পথে বসলেন। মনরো জেলে ঢুকল ঠিকই, কিন্তু এক জন আমিশও তার বিরুদ্ধে নালিশ করলেন না! বরং নিজেরা ট্রাস্ট গড়ে, চার্চের সাহায্যে, চাঁদা তুলে সর্বস্বান্ত পরিবারগুলোকে সাহায্য করায় মন দিলেন। তেল আর গ্যাস কোম্পানিরা তো রোজ আমিশদের জপাবে। জমিগুলো লিজ নিয়ে মানুষগুলোকে ঠকানোই তাদের মূল উদ্দেশ্য। আমিশরা বলেছেন, যে যা করছে করুক। তাঁরা মাপ করে দিয়েছেন। কোর্ট-কাছারিতে যে নোংরামি আর হয়রানি, তার চেয়ে  টাকা যাওয়া ভাল।
বাক্যহারা করে দিয়েছিল ২০০৬ এর ২ অক্টোবর। চার্লস নামের মার্কিন যুবক আমিশ স্কুলে ঢুকে, বেছে বেছে ছয় থেকে তেরো বছরের ছাত্রীদের কয়েদ করে, এলোপাথাড়ি গুলি চালাল। পাঁচ জনকে মারল, বাকিদের আধমরা করে ছেড়ে দিল,  তার পর নিজে মরল।
রক্তাক্ত আমিশরা তখনও ক্রুশে বেঁধা যিশুর বাণী আঁকড়ে রইলেন। নাতনি হারানো এক দাদু তাঁর পরিবার-পরিজনকে বারবার সাবধান করলেন, কেউ যেন আততায়ীর বিরুদ্ধে মনে বিষ না রাখেন। নিজেদের শোক সামলে আমিশরা সেই খুনির পরিবারকে সান্ত্বনা দিতে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন, তার শেষযাত্রায় পা মেলালেন, খুনির বিধবা স্ত্রী ও মা-বাবার জন্য ট্রাস্টও গড়লেন।
এই নিয়ে গল্পের বই, সিনেমা অনেক হয়েছে তার পর। কেউ বলেছেন, বোকা। কেউ বলেছেন, গুষ্টির মাথায় পোকা। কিন্তু আজ, ফাঁসি নয় ফাঁসি চাইয়ের রইরইয়ের মধ্যিখানে, স্বাধীনতার সকালে টগবগে দেশপ্রেমের পেয়ালা হাতে, আপনি কী বলবেন? 

http://www.anandabazar.com/lorai/%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A7%9F-%E0%A6%A5-%E0%A6%AE-%E0%A6%A5-%E0%A6%95-1.192803


আমি জানি, মন জানে

আমি জানি, মন জানে

১৫ অগস্ট, ২০১৫, 



ছো ট গল্প ‘সমুদ্র’-এ, জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী একটা ভারী দামি কথা বলেন, ‘পৃথিবীর যে মানুষ প্রথম ঈশ্বরের কথা বলতে গিয়েছিল সে বাজে চরিত্রের লোক ছিল, ছোটলোক ছিল, আকাশের গ্রহনক্ষত্রের রহস্য যে বোঝাতে চেয়েছিল সে উন্মাদ ছিল, অপরাধী ছিল।’ সত্যি, অন্য রকম মানুষকে নিয়ে, তার নিজের মতো থাকাটাকে নিয়ে আমাদের সমাজের বাড়াবাড়ি রকমের গায়ের জ্বালা। সকলে অবশ্য সমাজের এই গা-জ্বালার থাপ্পড় ও টিপ্পনীকে মেনে নেওয়ার বান্দা নয়, কেউ একা, আবার কখনও কয়েক জন মিলে এই ‘অন্য’ হওয়ার অধিকার ছিনিয়ে নিতে লড়াই চলে। লড়াই মানে মারামারি নয়, শুধু সব কিছুকে উপেক্ষা করে, নিজের মতো হয়ে চলা। নিজের মতো থেকে যাওয়া। তাদের কথায়, গানে, পোশাকে, বাসস্থানে, ধর্মাচরণে আর জীবনযাপনে ঠিকরে পড়ে শেকলভাঙা জীবনদর্শন। স্বাধীনতার সত্যিকারের মানেটা দেখিয়ে আর বুঝিয়ে দিতে শুরু করে তারা।
একটা সময়, হিপিরা সমাজে অনেকটা আশ্চর্য অন্যরকমত্ব এনেছিলেন। আমরা সাধারণত হিপি বলতে বুঝি, লম্বা চুলের কিছু লোক, যারা দিনরাত নেশাভাঙ করে আর মহা ফাঁকিবাজ বলে জীবনের মূল স্রোতে ঢোকে না, দায়িত্ব নেয় না। মনে রাখতে হবে, যে বিটনিক শিল্পীরা কমিউন করে থাকতেন আর সমাজের প্রায় সব ক’টা শ্রদ্ধেয় প্রতিষ্ঠান ও প্রথাকে হেসে উড়িয়ে দিতেন, তাঁদের মধ্যে থেকেই অ্যালেন গিন্‌সবার্গ বা জ্যাক কেরুয়াক বেরিয়ে পৃথিবীর শিল্পের বাঁক বদলে দিয়েছিলেন। হিপিদের জীবন ও দর্শনে ‘বিট’দের প্রভাব প্রবল।

ছবি: গেটি ইমেজেস।
প্রথম বিশ্বের লোকজন হয়েও হিপিরা লোভের গোটা ফাঁদটাকেই এড়িয়ে যেতে চেয়েছিলেন। দশটা-পাঁচটার কেরানি-সংস্কৃতি আর সারা ক্ষণ লোলুপ জিভ বের করে ‘টিভি কিনতে হবে ফ্ল্যাট কিনতে হবে’-র দৌড়ে শামিল হওয়ার বাধ্যতা; পাইকারি হারে, দোকানের তৈরি একই ডিজাইনের পুতুলের মতো, সব্বার স্বপ্ন একদম একই ব্লুপ্রিন্ট চলার হাস্যকর ছক— একে আক্রমণ করতেই হিপিরা এর পুরোপুরি বাইরে একটা জীবন বেঁচে ও খেয়েমেখে বলতে চেয়েছিলেন, ভাই, তুমি তোমার বাবা ঠাকুদ্দা ও তার বাবা না হয়ে, বরং তুমি হও।
স্বামী-স্ত্রী-সন্তানের ইউনিটটাকে ভেঙে, সমাজের একক যে পরিবার— তার ধারণাটাকেই ভেঙে, কমিউন করে, সবাই মিলে একসঙ্গে থাকা হত। তা শুধু সম্মিলিত যৌনতার আশ্চর্য স্বাদের জন্য নয়, যদিও সেটা একটা গুরুত্বপূর্ণ কারণ। কিন্তু এর মধ্যে ব্যক্তিগত সম্পত্তির ধারণাটাকেই প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে, আর তাই পুঁজিবাদী সমাজব্যবস্থার গোড়ার ব্যাপারটারই বিরোধিতা করা হচ্ছে, তা নজর এড়িয়ে গেলে চলবে না। 
যে রাষ্ট্র একের পর এক যুদ্ধাস্ত্র বানায়, পারমাণবিক বোমা ফেলে বড়াই করে, সেই রাষ্ট্রকে শ্রদ্ধা করব না, যে মধ্যবিত্ত মূল্যবোধগুলো পৃথিবীকে দখল করে রেখেছে সেই ক্ষুদ্র মানসিকতার আড়তকে প্রণাম জানাব না, আর একটা বিকল্প জীবনযাপনের তরিকা খুঁজে চলব, এই ছিল হিপিদের মূল ভাবনা। হ্যাঁ, নেশা করতে তাঁরা বলতেন বইকী। চিৎকার করে সবাইকে ড্রাগ নিতে বলতেন। এটা কিন্তু ঠিক ইয়ং বেঙ্গলের মতো গো-হাড় ছুড়ে মজা পাওয়ার মতো নয়। ড্রাগ নাও, এলএসডি নাও, এই অনুরোধের মধ্যে মধ্যবিত্ত ভিতু মানসিকতার প্রতি ব্যঙ্গ নেই, আছে এই বিশ্বাস: যুক্তির মধ্যে, র‌্যাশনালিটির মধ্যে বন্দি থাকাও এক বিরাট পরাধীনতা। কখনও কখনও মনের পরিধিটাকে অনেক বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য, নিজের মধ্যে কতগুলো দেশবিদেশ আছে তার আভাস পাওয়ার জন্য, জীবনের আনন্দ-অভিজ্ঞতার সম্ভাবনা অনেকটা বাড়িয়ে নেওয়ার জন্য, মাদকের সাহায্যে ঘেরাটোপ পেরিয়ে যেতে হয়।
কবি জে স্টিভেন্‌স তো ‘এলএসডি’ সম্পর্কে এ কথাও বলেছেন, ‘এটা ছিল হিপিদের দীক্ষার মূল উপকরণ, একটা ‘হৃদয়ের সাবান’, যা বছর বছর ধরে হওয়া সামাজিক মগজধোলাইকে ধুয়ে দেবে, নতুন করে লিখবে নতুন মন্ত্র, তার চেতনাকে প্রসারিত করবে, এই ড্রাগের সাহায্যেই আমরা উঠে যাব বিবর্তনের মই বেয়ে, পরের ধাপে’! আমাদের মনে পড়ে যায় বিটলসের বিশ্বজয়ী গান, ‘লুসি ইন দ্য স্কাই উইথ ডায়মন্ডস’, যার প্রথম শব্দগুলোর আদ্যক্ষর মিলে ‘এলএসডি’-ই হয়! 
হিপিদের ভারতীয়রা ভাল চোখে দেখেনি, কিন্তু তাদের অস্বীকারও করা যায়নি। সত্যজিতের ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’তে হিপিদের দেখা যায় নাচতে, তপন সিংহের ‘এখনই’-তে চিন্ময় রায় হিপির ভূমিকায় অভিনয় করেন।আর হিন্দি ছবি ‘হরে রাম হরে কৃষ্ণ’-তে জিনাত আমনের হিপির ভূমিকায় ঘোর-লাগা নাচ তো আইকনিক। 
অনেকেই ড্রাগ বা ছন্নছাড়া যাপনকে একটা দর্শনে এনে ফেলার প্রয়াসটাকে নিতান্ত আমোদবিলাসীর কুযুক্তি ভাবতেই পারেন, কিন্তু এই লাগামছাড়া ‘অল্টারনেটিভ লাইফ’ বাঁচার সাংঘাতিক প্রভাব পড়েছিল সাহিত্য, সংগীত, সিনেমা, নাটক— শিল্পের সব শাখায়। হিপিদের যুদ্ধবিরোধিতা, যুদ্ধবাজদের দেখলে ফুল ধরিয়ে দেওয়া, পোশাকে গাড়িতে মারকাটারি রঙের ব্যবহার, কমিউনে যৌনতা নিয়ে নিরীক্ষা, সতীত্বের ধারণাকে উপেক্ষা করে সবাই মিলে আনন্দ-ভোগের আয়োজন নাড়া দিয়েছিল পৃথিবীকে। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক থেকে ‘বিটলস্‌’ তখন হিপিদের পক্ষে। ১৯৬৭-তে সান ফ্রানসিসকোর হিপি ফেস্টিভালে লাখো মানুষ এসে জড়ো হন। ’৬৯-এর অগস্টে বিখ্যাত উডস্টক ফেস্টিভালে হাজির হন চার-পাঁচ লাখ হিপি। সত্তরের দশকে হিপি-কালচার মার্কিন মুলুক পেরিয়ে পৌঁছে যায় ব্রিটেন, নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, চিলি-সহ দুনিয়ার নানা প্রান্তে। কেউ কেউ হিপিদের তো উইলিয়াম ব্লেক, অস্কার ওয়াইল্ড, ওয়াল্ট হুইটম্যানের  যোগ্য উত্তরসূরি বলে দাবি করেছেন।
১৯৬৪ সালে আমেরিকায় লেখক কেন কেসি’কে ঘিরে একটা বাউন্ডুলে দল গড়ে উঠেছিল, যাঁরা নিজেদের বলতেন ‘মেরি প্র্যাংকস্টারস’।  ‘ফারদার’ নামের একটা ছোট্ট, রঙিন স্কুলবাসে চড়ে এঁরা ঘুুরেছিলেন গোটা আমেরিকা। আর এক বাস-যাত্রায় মন জয় করে নিয়েছিলেন দেশের সব হিপিদের। সেই নিয়ে গান বেঁধেছিল আমেরিকার রক ব্যান্ড ‘গ্রেটফুল ডেড’—‘দ্যাটস ইট ফর দি আদার ওয়ান’: Escapin' through the lily fields/ I came across an empty space/ It trembled and exploded/ Left a bus stop in its place/ The bus came by and I got on/ That's when it all began/ There was cowboy Neal/ At the wheel/ Of a bus to never-ever land...
হিপিরা নিরামিষ অর্গানিক ফুড খেতেন, প্রচুর দর্শন পড়তেন, প্রাচ্যের অধ্যাত্মবাদ তাঁদের খুব টানত। চেনা লাগছে না? আজ যখন বিদেশিরা ‘যোগ’ নিয়ে হইহই করেন, বা সব দেশেই অর্গ্যানিক খাবার খাওয়াকে স্বাস্থ্য ও নীতির পক্ষে আদর্শ হিসেবে ঘোষণা করা হয়, হয়তো কোথাও হিপি কালচারই জিতে যায়! 


http://www.anandabazar.com/lorai/anunay-chattopadhyay-writes-on-hipi-1.192813