Tuesday, 8 September 2015

অখ্যাত এক মোহনবাগানির বিলাপ

অখ্যাত এক মোহনবাগানির বিলাপ

৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৫, ১৬:৩৭:২৭










সঞ্জয় সেন সমীপেষু
পিসতুতো দিদির উপহার সেই সবুজ-মেরুন জার্সি আর সাদা শর্টসটা এখনও সযত্নে তোলা আছে। ক্লাস ওয়ানে পাওয়া। তখন ১৯৮২। আর রবিবার বিকেলে, জানেন সঞ্জয়বাবু, জার্সিটায় হাত বোলাতে বোলাতে খুব কেঁদেছি। চুলে পাক ধরেছে, চোখে উঠেছে প্রোগ্রেসিভ লেন্স, কিন্তু বিশ্বাস করুন দাদা, এই বয়সেও চোখের জল সামলাতে পারলাম না।
আমার মতো সদ্য চল্লিশ পূর্ণ করা বা তার চেয়ে কমবয়সী মোহনবাগান সমর্থকদের কাছে সেই পাঁচ গোলের কলঙ্কের স্মৃতি নেই। কারণ, চল্লিশ বছর আগে, ১৯৭৫-এর আইএফএ শিল্ড ফাইনালের সময়ে আমাদের কেউ কেউ সদ্যোজাত, আর কারও তো জন্মই হয়নি। আমরা সেই কলঙ্কের সাক্ষী ছিলাম, এমনটা বলা যাবে না। শুধু সেই পুরনো রেকর্ডের প্রসঙ্গ টেনেই আমাদের বার বার ব্যঙ্গবিদ্রূপ করা হত। তবে এত দিন। রবিবারের ডার্বি ম্যাচের পর অবশ্য আর ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের চল্লিশ বছরের পুরনো কথা বলার দরকার হবে না। এই ০-৪ গোলে হারার লজ্জা সেই ০-৫-এর চেয়ে কম নয়। আর জানি তো, ডংদের কাছে আধ ডজন গোলে হারতে হারতে কোনও রকমে বেঁচে গিয়েছি।
কত বার হারিয়েছি আমরা লাল-হলুদকে, কিন্তু বন্ধু ইস্টবেঙ্গল সমর্থকেরা দাবড়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে এই বলে— ‘আগে পাঁচ গোলে আমাদের হারা তো, তার পর আনন্দ করিস।’ বুকে চিনচিনে ব্যথা নিয়েও ফুঁসে উঠেছি, ও সব অতীত, অনেক আগের ব্যাপার, ফাঁকতালে করে ফেলেছিলি, আর কখনও পারবি না। কিন্তু রবিবারের পর সঞ্জয়বাবু, জানেন তো, আর ও কথা বলার মুখ রইল না।
আপনি দাদা, ১৯৯৭-এর সেই ডায়মন্ড ম্যাচের ১-৪ গোলে হারার কথা তুলতেই পারেন। কিন্তু ওটা নিয়ে লাল-হলুদ সমর্থকেরাও বেশি মাথা ঘামায় না। কেন জানেন? ওটা ছিল ডায়মন্ড ফর্মেশন নিয়ে আমাদের কোচ অমল দত্তের পরীক্ষানিরীক্ষা করার ম্যাচ। পরীক্ষাটা কাজে লাগেনি, আমরা হেরে গিয়েছিলাম, কিন্তু সেই যে নতুন একটা কিছুর উদ্ভাবনার চেষ্টা— সেটা ব্যর্থ হলেও আলোচিত হয়েছিল। আর আমাদের চিমা সে বার এক বার অন্তত ইস্টবেঙ্গলের জালে বল ঢুকিয়েছিল। সে বার ম্যাচের আগে অমল দত্ত ভাইচুংকে চুংচুং, ওমোলোকে অমলেট, সোসোকে শশা বলে বিদ্রূপ করেছিলেন এবং আখেরে তেতে গিয়েছিল ওদের গোটা দল।
আর সঞ্জয়বাবু, আপনি পূর্বসুরির সেই ভুল থেকে কোনও শিক্ষা নিলেন না। উল্টে বড় বড় ভাষণ দিয়ে নিজে ও গোটা টিমটাকে অনর্থক চাপে ফেলে দিলেন। এটা ভোকাল টনিক না দাদা, ভোকাল টনিক না। এটাকে বলে বারফাট্টাই। ফাঁপা আওয়াজ। দয়া করে সনি নর্ডির মতো বারো জনকে আইএসএলের ক্লাবগুলোর হাতে তুলে দেওয়ার ফলে আপনার দল দুর্বল হয়ে গিয়েছে— অমন যুক্তি-টুক্তি দিতে যাবেন না। কমজোরি টিম নিয়ে যদি আপনি ডং-অবিনাশ-রফিকদের রুখে দিতে না পারেন, তা হলে আপনি কীসের বড় কোচ?
দু’টো উদাহরণ দিই আপনাকে। ১৯৮৮। অপ্রতিরোধ্য, টুর্নামেন্টের পর টুর্নামেন্ট জিতে চলা মোহনবাগানের জয়রথ কলকাতা লিগের প্রথম ডার্বি ম্যাচে থামিয়ে দিয়েছিলেন পি কে বন্দ্যোপাধ্যায়। অনেক কমজোরি দল নিয়ে, স্রেফ স্ট্র্যাটেজি কষে। ১৯৮৯। বক্রেশ্বর তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পের তহবিল গড়ার জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকার আয়োজিত টুর্নামেন্ট। দুর্ধর্ষ ফর্মে কৃশানু দে। মহামেডান ম্যাচে নিজে হ্যাটট্রিক করেছেন, আরও দু’-তিনটে গোল করিয়েছেন। কিন্তু সেই কৃশানুকে সঞ্জীব দত্ত নামে এক নবাগতকে দিয়ে পুলিশম্যান মার্কিং করিয়ে আটকে দিয়েছিলেন অমল দত্ত। ম্যাচটা জিততে পারিনি, কিন্তু হারতেও হয়নি আমাদের। আপনি কি এই সব আদৌ জানেন দাদা?
সঞ্জয়বাবু, আপনার চেতলার বাড়ি থেকে আরও অনেকটা দক্ষিণে, যাদবপুরের এক উদ্বাস্তু তল্লাট শ্রীকলোনিতে আমার জন্ম ও বেড়ে ওঠা। ত্রিসীমানায় মোহনবাগানের নামগন্ধও নেই। তবু তার মধ্যেই আশৈশব আমি মোহনবাগান সমর্থক। মা-বাবা দু’জনের দিক থেকে পূর্ববঙ্গীয় হলেও লাল-হলুদ সমর্থকদের বড্ড উগ্র মনে হত, ভাল লাগত না মাইরা-কাইট্যা ফ্যালামুর ঔদ্ধত্য। একটু উপলব্ধি হওয়ার মতো অবস্থায় প্রথম বড় ম্যাচের স্মৃতি ১৯৮২-র কলকাতা লিগের ডার্বি।
বাড়িতে তখনও টিভি আসেনি। রেডিও-র রিলে শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। পাশের বাড়ির দাদার উল্লাসে ঘুম ভেঙে যায়, কী না, কার্তিক শেঠের গোলে ইস্টবেঙ্গল জিতে গিয়েছে। গোটা পাড়া তার পর সাত দিন ধরে আওয়াজ দিল আমাকে। এ সবের জবাবই ওই সবুজ-মেরুন জার্সি। পিসতুতো দিদির কাছে বায়না করেছিলাম। পাড়ার মাঠে যখনই খেলতে নামতাম, ওটা পরেছি। সঞ্জয়বাবু, ওটাই ছিল আমার নিঃশব্দ জবাব ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের। পাড়ার একমাত্র মোহনবাগানির নীরব লড়াই।
দাদা, আমাদের গলার জোর কিছুটা বাড়ল মোহনবাগানে বিদেশি খেলোয়াড় নেওয়া শুরুর পর। আর আমাদের প্রিয় সবুজ তোতা ব্যারেটোর সময়ে তো ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে জেতাটা এক রকম অভ্যাসে পরিণত করেছিলাম। লাল-হলুদের সমর্থকেরা তখন ম্রিয়মান। কিন্তু ওই, পাঁচ গোল খাওয়ার কলঙ্ক একটা সময়ের পর ঠিক ওরা টেনে আনত।
রবিবারের পর ওদের আর ১৯৭৫-এ ফিরতে হবে না সঞ্জয়বাবু। ২০১৫-র ৬ সেপ্টেম্বরের টাটকা প্রসঙ্গ হাতের সামনে পেয়ে গেল।
সাংবাদিকদের নিরপেক্ষ হতে হয়, যতটা সম্ভব আবেগকে রাখতে হয় নিয়ন্ত্রণে। কিন্তু পাঁচ গোলের ওই লজ্জার পর এক ক্রীড়া সাংবাদিক কোনও দিন মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গল ম্যাচে মাঠে যাননি। আনখশির মোহনবাগানি ওই সাংবাদিকের শর্ত ছিল, মোহনবাগান ওই কলঙ্ক মোচন না করা পর্যন্ত তিনি ডার্বি ম্যাচে যাবেন না। কিন্তু তাঁর নাছোড় ক্রীড়া সম্পাদক তাঁকে সেই অ্যাসাইনমেন্টই দেবেন। তখন সেই সাংবাদিক ছুটি নিতে শুরু করলেন। তবে দেখতে দেখতে ছুটি ফুরিয়ে গেল। তখন বড় কাগজে চাকরিটাই ছেড়ে দিলেন ওই সাংবাদিক। আমরা, মোহনবাগানিরা সঞ্জয়বাবু, এমনই। প্রকাশ হয়তো কম, আবেগটা কিন্তু বড্ড বেশি।
রবিবারের কলঙ্কের পর একটা প্রতিজ্ঞা করার কথা ভেবেছি মাননীয় মোহনবাগান কোচ সঞ্জয় সেন। আধ ডজন গোল ইস্টবেঙ্গলকে না দিতে পারলে টিভিতেও কোনও দিন আর মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গল ম্যাচ দেখব না, কোনও দিন না!
কিন্তু তাতেও কি আপনার মতো মানুষ আদৌ চাগবেন সঞ্জয় সেন?

বিনীত
সুরবেক বিশ্বাস      

http://www.anandabazar.com/khela/letter-to-mohun-bagan-coach-sanjay-sen-1.204613


ডং, তর গোলটা ডার্বিতে আমিও করসি

পঁচাত্তরের সঙ্গে পনেরোর আড্ডা

ডং, তর গোলটা ডার্বিতে আমিও করসি

দেবাঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়

কলকাতা, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৫, ০২:২৩:৩৪







বাড়ি থেকেই ১৮ নম্বর লেখা লাল-হলুদ জার্সিটা ব্যাগে নিয়ে বেরিয়েছিলেন। তার পর সটান ইস্টবেঙ্গল ড্রেসিংরুমে ঢুকে তাঁদের টানা ছ’টা লিগ জেতার রেকর্ডের ইতিহাস চল্লিশ বছর পরে স্পর্শের উপহারস্বরূপ সেটাই এখনকার প্রজন্মের মেহতাব, সৌমিকদের হাতে তুলে দিলেন সমরেশ চৌধুরী। ‘‘আমাগো ছোঁয়ার জন্য তদের লগে এই জার্সি।’’
ময়দানের ‘পিন্টু’-র এর পরে মেহতাবদের কাছে আবদার,  ‘‘অখন আই লিগটাও আন। বাইসা থাকতে থাকতে দেইখ্যা যাই।’’ ততক্ষণে সমরেশের আনা জার্সির উপর মার্কার দিয়ে খাবরা লিখে ফেলেছেন ‘ফ্রম ফর্মার চ্যাম্পিয়ন টু কারেন্ট চ্যাম্পিয়ন— লং লিভ পিন্টুদা’।
লাল-হলুদের প্রথম হেক্সা লিগ জয়ে টানা ছ’বছরই টিমে ছিলেন সমরেশ ছাড়াও সুধীর কর্মকার। সোমবার ব্যক্তিগত ব্যস্ততার কারণে সুধীর না এলেও সমরেশ হাজির ছিলেন সকালে ইস্টবেঙ্গল মাঠে ক্লাব পতাকা তোলার অনুষ্ঠানে। যেখানে লাল-হলুদের সাফল্য, আবেগের সঙ্গে নস্ট্যালজিয়াও মিলেমিশে একাকার।
ড্রেসিংরুমে এক প্রান্তে বসেছিলেন ইস্টবেঙ্গলের নতুন ‘প্রিন্স চার্মিং’ ডু ডং হিউন। তাঁকে সেই নিজের প্রিয় ১৮ নম্বর জার্সি দেখিয়ে সমরেশের বাঙাল ভাষায় রসিকতা, ‘‘আটতিরিশ বচ্ছর আগে সাতাত্তরের বড় ম্যাচে তর মতো আমিও চল্লিশ গজের ফ্রিকিকে গোল করসিলাম রে। কাজেই ঘ্যাম নিবা না...।’’ বলেই অবশ্য সমরেশ বুকে জড়িয়ে ধরলেন তাঁর প্রিয় ক্লাবের তরুণ কোরিয়ান ফুটবলারকে। ডংকে তখন এ সব কিছু তর্জমা করে বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন অ্যালভিটো। বিষয়টা বুঝে ডংও হাসতে লাগলেন হো হো করে।
ড্রেসিংরুমে অন্য প্রান্তে তখন বসে এ বারের ‘হেক্সা লিগ’ জয়ী লাল-হলুদের ছ’বছরই টিমে থাকা তিন ফুটবলার। খাবরা, মেহতাব, সৌমিক। তাঁদের জার্সি দেওয়ার পরেই বসল আড্ডা। বন্ধ সেই ড্রেসিংরুমে একমাত্র হাজির আনন্দবাজার। আর তার পরের কথাবার্তা এ রকম:

মেহতাব: পিন্টুদা, আপনাদের ছ’টা লিগ জয়ে কোনটা সবচেয়ে কঠিন ছিল?
সমরেশ: ধুর, কী যে কস! একটাও না। পান চাবাইতে চাবাইতে মাঠে নামতাম। তোদের কোনটা?
খাবরা: এ বারেরটা দাদা। দশটা দল। চারটে নামবে। ফলে লড়াই আরও বেশি। সঙ্গে সাপোর্টারদের টানা ছ’বার লিগ পাওয়ার প্রত্যাশার চাপ। তার উপর আর্মি আর কালীঘাট ম্যাচে তো ফার্স্ট হাফে দু’গোলে হারতে থাকা। সেই সব সামলে লিগ চ্যাম্পিয়ন আমরা।

সমরেশ: (খাবরার পিঠে স্নেহসুলভ থাপ্পড় মেরে) তাইলে লাল-হলুদ জার্সিটা পড়ছস ক্যান?
সৌমিক: শুনেছি, আপনাদের সময় কলকাতা লিগ আরও চাপের ছিল?

সমরেশ: তা আর কইতে? ড্র করলেই তাঁবু ঘেইরা ফেলত সাপোর্টার লগে। তবে চাপটা ভাল। প্রমাণ করার তাগিদ আসে। তবে আমাগো টাইমে শুধুই চাপ নয় রে, কর্তাদের  ভালবাসাও কম ছিল না।
মেহতাব: দু’একটা ঘটনা বলুন না?

সমরেশ: (মুচকি হেসে) আমাগো পল্টুদা, জীবনদা, ডাক্তারদা (ডা. নৃপেন দাস)-রা ছিলেন মহান মানুষ। পল্টুদা তো গার্জেন-কাম-বন্ধু।  প্লেয়ারের বাড়ির চাল, চিনি থেইক্কা চিকিৎসা সব ম্যানেজ করতেন একা। একাত্তরে আমি আর সুধীর এক দিন ডাক্তারদার কাছে গিয়া কইলাম, সুধীরের হাজার আর আমার পাঁচশ টাকা লাগব’। শুনে ডাক্তারদা কইলেন  কথাটা ইংরেজিতে ক। আমি কইলাম, পড়াশোনা জি়গাইস্যান ক্যান? একটা বল দিই আপনারে। দশ বার নাচান তো? ডাক্তারদা তখন হাসতে হাসতে কইলেন, যা, কাল টাকা দিয়া দিমু।
সৌমিক: আমাদের নীতুদা, কল্যাণদা, বাবুদারাও এ রকমই।
মেহতাব: আমার কেরিয়ারে যখন ভাঁটার টান তখন নীতুদাই দিনের পর দিন ঘরে ডেকে বুঝিয়েছে— চিন্তা নেই তুই পারবিই। এটাই টানা ছ’টা লিগ জয়ের বড় শক্তি।

সমরেশ: আমরা যখন ছ’বার লিগ আনসি তখনকার ওই তিন কর্তা আজ আর নাই। কেবল স্বপনদারে দেখি। আর দেখি সে দিনের পোলা নীতুরে।   পল্টুদার মতো ও-ও কিন্তু টানা ছয় বার লিগটা আনল আমাগো তাঁবুতে। ক্যাবল তফাত এই যে, দাদা ছয় বারের লিগটা আনার বছরে একটা পাঁচ গোলের ইতিহাসও রাখসিল। আর ভাই, চার গোলেই থাইম্মা গেল। (এ বার চোখ আধশোয়া বিকাশ জাইরুর দিকে) তর নাম বিকাশ না? কাল ওই বলটা আরও একটু জোরে মারতে পারলি না! তা হলেই কিন্তু পাঁচ গোল হইয়া যাইত। দাদা-ভাই ম্যাচটাও ড্র হইয়া যাইত। হা-হা-হা...।


http://www.anandabazar.com/khela/former-east-bengal-footballer-samaresh-choudhuri-proudly-remembers-dong-like-goal-in-1975-derby-1.205009#

Sunday, 6 September 2015

ডং জাদুতে ছয়ে ছয় লাল-হলুদের

ডং জাদুতে ছয়ে ছয় লাল-হলুদের

রতন চক্রবর্তী

কলকাতা, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৫, ০৩:০৪:১২










ইস্টবেঙ্গল ৪ (ডং ২, রফিক, রাহুল) মোহনবাগান ০
কত হলুদ আবির উড়ল রবি-সন্ধ্যার আকাশে! লাল আবিরে রাঙা হল কত মুখ!
শব্দবোমার আওয়াজে ক’বার কেঁপে উঠল যুবভারতী!
কত মশাল জ্বলছিল, গর্বের কত লাল-হলুদ পতাকা উড়ছিল আকাশমুখী হয়ে!
ভারতীয় ফুটবলের নতুন পোস্টারবয় হয়ে কোরিয়ান ডু ডং হিউন ম্যাচের শেষে সেগুলো ঘুরেঘুরে দেখার চেষ্টা করছিলেন। অবাক দৃষ্টি নিয়ে মিনিট তিনেক দেখলেনও। তার পর হঠাৎ-ই হাঁটতে শুরু করলেন গ্যালারির দিকে। পিলপিল করে পিছনে ছুটছে মানুষ। দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার পর যখন সমর্থকদের কাঁধে চড়ে ফিরলেন ড্রেসিংরুমে, তখন রীতিমতো বিধ্বস্ত ইস্টবেঙ্গল জনতার হার্ট থ্রব। কিন্তু মুখের কোণে ঝুলে আছে পরিচিত সেই হাসি। যা এতটাই চওড়া যে, রং মশাল হয়ে ছড়িয়ে পড়ছে মনে হল!
চল্লিশ বছর আগে সমরেশ-সুভাষরা যে দিন টানা ছ’বার লিগ জিতে ইতিহাস তৈরি করেছিলেন, সে দিন মাঠে উৎসব করতে পারেননি। লিগ নিয়ে মামলা থাকায়। সরকারি ভাবে তা ঘোষণা না হওয়ায়। ডং-এর আলো ছড়ানোর দিনে কিন্তু উৎসব শুরু হয়ে গেল ইস্টবেঙ্গলে। পাঁচ লাখ টাকা পুরস্কার থেকে টুর্নামেন্টের এক ম্যাচ বাকি থাকতেই ক্লাব পতাকা তোলার দিন নির্দিষ্ট হয়ে গেল। আজ সোমবারই।
ডার্বিতে জোড়া গোল নতুন কোনও ঘটনা নয়। গতবারই তো লিগে র‌্যান্টি মার্টিন্সের দু’টো গোল আছে বাগানের বিরুদ্ধে। কিন্তু ডং এমন একটা মঞ্চে এমন দু’টো গোল করলেন, যার নজির বিরল। হয়তো আর কখনও আসবেও না। হেক্সা লিগ জিতে ইতিহাস ছোঁয়া। সঙ্গে ডার্বি জিতে লিগ জয়। এই মঞ্চ তো চিমা, কৃশানু, বিকাশরাও পাননি কখনও। পড়শি ক্লাবে আই লিগের হ্যাংওভার কাটিয়ে দিতে দেবদূত হয়ে আছড়ে পড়ল ডং-এর দু’টো গোল। যাঁর প্রথমটা মনে পড়াল মহম্মদ আকবরকে। ডার্বিতে দ্রততম গোলের জন্য যা এখনও অমলিন। ডং-এর শুরুর গোলটা তো এক মিনিট বাইশ সেকেন্ডে। লাল-হলুদ সমর্থকদের মনের জ্বালা জোড়ানোর জন্য এর পরেও হল আরও তিনটে। পঁচাত্তরের আইএফএ শিল্ডের ৫-০ ছোঁয়াও হয়ে যেত হয়তো এ দিন, বাগানের সঞ্জয় বালমুচু গোল-লাইন সেভ না করলে।
ইস্টবেঙ্গলের বড় ব্যবধানে ডার্বি জয়
• ১৯৭৫ শিল্ড ফাইনালে ৫-০
• ১৯৩৬ লিগে ৪-০
• ২০১৫ লিগে ৪-০
• ১৯৯৭ ফেড কাপে ৪-১
• ২০০৫ শিল্ডে ৪-১
• ১৯৭৫ ও ১৯৭৭ লিগে সব ম্যাচ জিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ইস্টবেঙ্গল।
• ১৯৭২ ও ১৯৯১-এ ইস্টবেঙ্গল চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল কোনও গোল না খেয়ে।
• ২০১৫-এ লিগে এখনও পর্যন্ত ইস্টবেঙ্গল অপরাজিত (একটি ম্যাচ ড্র)।
• ডার্বির ইতিহাসে দ্রুততম গোল ১৯৭৬ লিগে মোহনবাগানের মহম্মদ আকবরের। ১৭ সেকেন্ডে। 
• ডু ডং রবিবার করলেন দ্বিতীয় দ্রুততম গোল, ১ মিনিট ২২ সেকেন্ডে।
তথ্য: হরিপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
আই এম বিজয়ন আর বাসুদেব মণ্ডলরা সোয়ার্ভিং শটে অনায়াস গোল করতেন। পরের দিকে ব্যারেটোও কিছু করেছেন। কিন্তু মেসি-ভক্ত কোরিয়ান তাঁদের চেয়েও বেশি নম্বর পাবেন দু’টো কারণে। প্রথমত, তাঁর দু’টো গোলই বাগান গোলের একই জায়গা দিয়ে বল গলিয়ে। বাঁ পায়ে। যা সাধারণত হয় না। দ্বিতীয়ত, সামনে ছয় জনের (দ্বিতীয় গোলের সময় তো আট জনের!) মানব প্রাচীরকে তোয়াক্কা না করে ভয়ঙ্কর গতি আর সোয়ার্ভের সংমিশ্রণে। সদ্য আই লিগ জয়ী অধিনায়ক শিল্টন পালের দীর্ঘ ফুটবল জীবনে মনে হয় এত মর্মান্তিক দিন আর আসেনি কখনও। ‘‘আমি বিজয়ন, ব্যারেটো, ওডাফা, বাসুদাকে মনে রেখেও বলছি, ডং-এর মতো ওঁরা কেউ ফ্রিকিক মারায় একশো পার্সেন্ট পারফেক্ট ছিল না,’’ বলছিলেন উচ্ছ্বসিত মেহতাব হোসেন। ইস্টবেঙ্গলের হেক্সা লিগ জয়ের প্রতি বছরই যিনি ছিলেন টিমের মাঝমাঠের জেনারেল। পঁচাত্তরের সমরেশ-সুধীরের মতো। তা সত্ত্বেও প্রশ্ন উঠেছে, ডং-এর ফ্রিকিকের সময় বাগানের ‘গার্ড লাইন’ কেন এত অগোছালো ছিল? কেন মানা হল না যুগ-যুগ ধরে কোচেদের ম্যানুয়ালে থাকা সেট-পিস রোখার নিয়ম? নিয়ম হল, কিপার যে পোস্টটা সামলাবেন, তার উল্টো দিকের পোস্টের দিকে দেওয়াল তোলার সময় লম্বা ফুটবলার রাখতে হবে। সেটা তো ছিলই না। ম্যাচ শেষে গজগজ করছিলেন বাগান কোচ সঞ্জয় সেন। ‘‘আরে, যে ভাবে সাজাতে বলেছিলাম সেটা করেই নি! খেসারত তো দিতেই হবে। লজ্জা, লজ্জার দিন! কি বলব? সব দায় আমার।’’
কলকাতা লিগে বাগান শেষ বার ডার্বিতে চার গোল হজম করেছিল সেই স্বাধীনতার আগে। ১৯৩৬-এ। তখন কোচ ব্যাপারটাই ছিল না। সিনিয়ররাই কোচিং করাতেন। তাঁরা সরতেন, আবার কর্তাদের ইচ্ছেয় আসতেন। কিন্তু এখন তো বিশ্বজুড়ে খারাপ ফল হলেই কোচ তাড়ানোর যুগ। গুঞ্জন চললেও সঞ্জয়কে নিয়ে সে রকম দাবি অবশ্য এখনও ওঠেনি। অন্তত প্রকাশ্যে। সহ-সচিব সৃঞ্জয় বসু রাতে বলে দিলেন, ‘‘কোচ সরানোর কোনও প্রশ্নই নেই। সে রকম কিছু হয়ওনি। সুভাষের ৩-১ এর পরও তো আমরা রেখে দিয়েছিলাম।’’
ইস্টবেঙ্গল কার্যত পুরো টিম নিয়ে খেলল এ দিন। উল্টো দিকে আই লিগ জেতা মাত্র দু’জন ফুটবলার ছিলেন এ দিনের বাগান টিমে। আর্থিক দৈন্যের কারণে সনি নর্ডি-সহ অন্তত বারো জন ফুটবলারকে আইএসএলের ক্লাবগুলির হাতে সরাসরি তুলে দিয়েছেন কর্তারা। ফলে সঞ্জয়কে আট জন একেবারে নতুন ফুটবলার নিয়ে নামতে হয়েছে আগুনে ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে। সত্তর হাজারের শব্দব্রহ্ম আর ডং-জাদুতে অনভি়জ্ঞ আজহার-কেন লুইসরা খেই হারিয়ে ফেলেছেন। দলের এক নম্বর স্ট্রাইকার ডুডু-র বিরতির পর লালকার্ড দেখে বেরিয়ে যাওয়াটা আরও অন্ধকারে নিয়ে গিয়েছে সঞ্জয়ের টিমকে। ডং-২: বাগান-০। ডুডু-বিদায়ের পর এই স্কোরলাইন বদলানোর তাই কোনও সুযোগও ছিল না। বরং ফুটবলের নিয়মেই সেটা বেড়েছে। হেক্সা লিগে কালি লাগাতে গিয়ে উল্টে কলঙ্কিত হয়েছে মোহনবাগান। আই লিগ জিতে আকাশে ওঠা বাগান-কোচ একশো দিনের মধ্যেই আছড়ে পড়েছেন মাটিতে। হাতাশার রেশ এতটাই যে, খেলার শেষে রেফারি রঞ্জিত বক্সিকে দৃষ্টিকটু ভাবে ধাক্কা মেরে লালকার্ড দেখতে হয়েছে লালকমলকে।
সেপ্টেম্বর মাস মানেই কি মোহনবাগানের সর্বনাশ?
বাংলার মাটিতে ইস্ট-মোহনের রেষারেষির যে তিনটে মাইলস্টোন অক্ষয় হয়ে থাকল, তার সবই যে এই মাসে। প্রথম টানা ছয় বার লিগ জিতে ইতিহাস তৈরির দিনটা ছিল ১৭ সেপ্টেম্বর। শিল্ডে সেই ঐতিহাসিক ৫-০ গোলের লজ্জার রেকর্ডটাও তো ইস্টবেঙ্গল করেছিল সেপ্টেম্বরের শেষ দিনে। আর হেক্সা লিগ ছোঁয়ার দিনটাও হয়ে থাকল ৬ সেপ্টেম্বর।
বিদেশে বিভিন্ন ক্লাবের সাফল্যের ইতিহাস গড়ার পর গান বাঁধেন টিম-সমর্থকরা। লাল-হলুদের অন্তত ছ’টি ফ্যানস ক্লাব আছে এখন। সুরজিৎ-সুধীরদের সময় এ সব ছিল না। সেপ্টেম্বর নিয়ে গান বাঁধার সুযোগ করে দিয়েছেন ডং অ্যান্ড কোম্পানি! বাগানে সূর্য অস্ত যাওয়ার দিনে, ইস্টবেঙ্গলের আকাশে সোনার আলো।
সোনাঝরা গানের অপেক্ষায় থাকা যেতেই পারে।
চল্লিশ বছর আগে নিজেদের মাঠে কালীঘাটকে ৪-০ হারিয়ে প্রথম হেক্সা ইতিহাস গড়া। কী অদ্ভুত সমাপতন! সেটা ছোঁয়ার দিনেও সেই চার গোল! ইতিহাস মনে হয় এ ভাবেই ফিরে ফিরে আসে। মুছেও যায়।
ইস্টবেঙ্গল: লুই ব্যারেটো, রাহুল, বেলো, গুরবিন্দর, রবার্ট (সৌমিক), মেহতাব (তুলুঙ্গা), বিকাশ, খাবরা, অবিনাশ, রফিক, ডং (র‌্যান্টি)।
মোহনবাগান: শিল্টন, সুমন, জুদেলিন (সফর), সঞ্জয়, সুখেন, তীর্থঙ্কর (পঙ্কজ), আসিফ, লালকমল, কেন, আজহার (কাতসুমি), ডুডু।

http://www.anandabazar.com/khela/eastbengal-crashed-mohunbagan-by-4-0-1.204546

বিপক্ষ কোচের অন্যকে ছোট না করলেও চলত : বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য

বিপক্ষ কোচের অন্যকে ছোট না করলেও চলত

বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য

৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৫, ০২:৫৬:১৫










মাঠ থেকে ফিরেছি চার ঘণ্টা হয়ে গেল। কিন্তু এখনও সেলিব্রেট করা তো দূরের কথা, এত বড় একটা জয় নিয়ে নিজের মনে ভাবার এক ফোঁটা সময় পাইনি। দৌড়োদৌড়িতে মোবাইলটা পর্যন্ত হারিয়ে ফেলেছি। রাত সাড়ে ন’টাতেও মাঠের ড্রেসটা ছাড়ার ফুরসত জোটেনি!
অথচ এমন নয় যে, কোচ বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্যের এটাই প্রথম ডার্বি জেতা! মোহনবাগানের কোচ হিসেবে এই ম্যাচটা ছ’বার খেলে পাঁচ বার জিতেছিলাম। কিন্তু ইস্টবেঙ্গলের প্রথম বার দায়িত্ব নিয়ে ডার্বি জিতে বুঝতে পারছি, এই জয়ের কী আনন্দ!
দেখুন, ডার্বির আগে বড় বড় কথা বলা, কিংবা ম্যাচটা জিতে আরও বড় বড় মন্তব্য করার কোচ আমি নই। তাই রবিবার মোহনবাগানকে আমাদের চার গোলে হারানোর পিছনে যেটা সরল সত্য সেটাই এখানে বলছি।
প্রথমেই স্বীকার করছি, গত চার-পাঁচ দিন আমি কোনও খবরের কাগজ পড়িনি। কিন্তু  দেবজিৎ (ঘোষ), সঞ্জয়ের (মাঝি) মতো আমার কোচিং টিমের সতীর্থরা আমাকে বলেছে, বিপক্ষ কোচ ডার্বি নিয়ে কেমন হুঙ্কার দিয়েছেন তাঁর লেখায়। তাতে আমি তেতে না উঠলেও ওরা কিন্তু মাঠেই এর জবাব দেওয়ার জন্য তেতে ছিল। আমি শুধু বিশ্বাস করি এবং এখন আরও বেশি করে মনে হচ্ছে, কেউ যদি অন্যকে ছোট করেন, তা হলে তাঁকেই এক দিন না এক দিন ছোট হতে হয়।
এমনকী এই যে, হাফটাইমে দু’গোলে এগিয়ে থেকেও ডার্বির সেকেন্ড হাফে অ্যাটাকিং ফুটবল চালু রাখার জন্য ইস্টবেঙ্গল কোচ হিসেবে আমার প্রশংসা-টশংসা শুনছি, তার জন্যও আমি কৃতিত্ব দাবি করব না। নিজের ফুটবলজীবনে ফরোয়ার্ড ছিল এমন কেউ কোচিংয়ে এলে তার টিম অ্যাটাকিং খেলবেই। গোটা ফুটবল বিশ্বে এর অজস্র উদাহরণ আছে। আমার কোচিংয়ে ইস্টবেঙ্গলের বেলায়ও সেটা হয়েছে। এর জন্যই এ বার লিগে দু’গোলে পিছিয়ে পড়া ম্যাচ এক বার আমরা ৩-২ জিতেছি, এক বার ৪-৩ জিতেছি।
আমি মনে করি, মোহনবাগান কোচ সঞ্জয় সেনও সেটা জানত। আর ও ধরলে ঠিকই ধরেছিল যে, আমার টিম ডার্বিতে হারুক-জিতুক, অ্যাটাকিং খেলবে। রবিবার এক পয়েন্ট পেলেও ইস্টবেঙ্গল লিগ চ্যাম্পিয়ন হতো। তা সত্ত্বেও আমাদের কোনও সময় এই ম্যাচটা ড্র করার মানসিকতা ছিল না। আর সে জন্য ওদের কাতসুমিকে শুরুতে বেঞ্চে রেখে ডিফেন্সে বড় চেহারার বিদেশি আভেস্কাকে খেলানোর স্ট্র্যাটেজি আমার মতে ঠিকই ছিল।
আমিও জানতাম, কাতসুমির চিন্তা বাদ দিয়ে আমায় মোহনবাগানকে হারানোর অঙ্ক কষতে হবে। সে জন্যই ঠিক করেছিলাম, অন্য সব ম্যাচে ডং যতটা উপরে অপারেট করছিল, ডার্বিতে সেটা ওকে দিয়ে করাব না। খানিকটা নীচের থেকে খেলবে। যাতে সামনে আরও বেশি জায়গা পায়। ডান দিক থেকে কাট করে ভেতরে ঢুকে আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে।
মেহতাবকে ওর পুরনো স্টাইলে মানে ডিফেন্সিভ মিডিও খেলিয়েছি এ দিন। খাবরা আর রফিকের উপর দু’টো নির্দিষ্ট দায়িত্ব ছিল। রফিককে বলে দিয়েছিলাম, সারাক্ষণ ওদের ডিফেন্সকে বিরক্ত করবি। আর খাবরাকে বলা ছিল, যত বেশি পারবি উপরে খেলবি। যাতে ডং একটু বেশি পিছন থেকে খেললেও বলের সাপ্লাই থাকে আমাদের অ্যাটাকের সময়।
ডং দু’টো সেটপিস থেকে দু’টো অনবদ্য গোল করেছে ঠিকই। দু’টো গোলই একেবারে মোক্ষম সময়ে। ফুটবলে যেগুলোকে ভীষণ ইম্পর্ট্যান্ট টাইম বলা হয়ে থাকে— ম্যাচের শুরু আর হাফটাইমের একটু আগে।
তা সত্ত্বেও বলব, ডং কিন্তু আগের ম্যাচগুলোর তুলনায় ডার্বিতে খারাপ খেলেছে। আমি বরং বেশি খুশি আমাদের শেষ দু’টো গোলে। কেননা আমার ট্রেনিং ঘরানার ছবিটাই ফুটে উঠেছিল ডার্বিতে ইস্টবেঙ্গলের তিন আর চার নম্বর গোলের বেলায়।

http://www.anandabazar.com/khela/opponent-coach-should-not-undermine-other-team-says-eastbengal-coach-biswajit-1.204541

বেঁচে থাকতে এ জিনিস আবার দেখব ভাবিনি : সমরেশ চৌধুরী

বেঁচে থাকতে এ জিনিস আবার দেখব ভাবিনি

সমরেশ চৌধুরী

৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৫, ০২:৩৬:২৪

চল্লিশটা বছর!
জীবনে এক-একটা মুহূর্ত আসে যেগুলো একবারই হয়। একবারই উপভোগ করা যায়। আর আমৃত্যু সেটাকে মনে রেখে মুহূর্তটাকে উপভোগ করে কাটিয়ে যেতে হয়। আমি ভাগ্যবান যে, ফুটবলজীবনে যে বিরল ঘটনার সাক্ষী থাকতে পেরেছিলাম, ফুটবল ছাড়ার পরেও একই সুখ উপভোগ করতে পারলাম। পঁচাত্তরে মোহনবাগানকে পাঁচ গোল দেওয়ার ঐতিহাসিক ম্যাচটা খেলেছিলাম আমি। লিগটাও সে বার আমরাই জিতি। আজকের মতোই টানা ছ’বার। কখনও ভাবতে পারিনি আরও একটা দিন দেখব, যে দিন ইস্টবেঙ্গল টানা ছ’বার লিগ জিতবে। মোহনবাগানকে উড়িয়ে ডার্বিটাও একই সঙ্গে নিয়ে যাবে।
আমরা যা পারিনি, বিশুর টিম তা আজ করে দেখিয়েছে। শিল্ডে মোহনবাগানকে পাঁচটা মেরেছিলাম, আর লিগটাও নিয়েছিলাম। ডংরা গোল একটা কম দিয়েছে আজ। কিন্তু আনন্দটা দিয়েছে বেশি। একই দিনে ডার্বি ও লিগ টিমকে জিতিয়ে। পঁচাত্তরে লিগ জয় নিয়ে অনেক টানাপড়েন হয়েছিল। কোনও উৎসবই হয়নি। পরে সেটা সুদে আসলে পেয়েছিলাম শিল্ডের ম্যাচটার পর। তাই আজ যখন মেহতাবকে কাঁধে তুলে সমর্থকরা পাগলামি করছিল, আমি মেহতাবের জায়গায় কল্পনা করছিলাম পার্টনারের (গৌতম সরকার) মুখ। সৌমিককে নিয়ে উল্লাস যখন দেখলাম মনে হল, ইস এ ভাবে যদি সে দিন সুধীরদাকে (কর্মকার) নিয়ে করা হত। ডংকে নিয়ে উৎসবের মধ্যে যেমন খুঁজছিলাম সুভাষদাকে (ভৌমিক)।
আমি কোনও তুলনা করছি না। আসলে এটা ভাইদের মধ্যে নিজের সমসাময়িকদের একটু খোঁজার চেষ্টা মাত্র। রবিবার গোটা বিকেল যা আমি করেছি। টাইম মেশিনে চড়ে সেই দিনটায় ফিরে যাওয়া, যে দিন এ সব আমাদেরও প্রাপ্য ছিল। জানি না, আর কত দিন বাঁচব। ম্যাচটার আগের দিন আনন্দবাজারে লিখেছিলাম, বিশু মোহনবাগানকে কিন্তু হারাতে হবে। ও কথা রেখেছে। আরও একবার গর্বিত করেছে আমাকে। এমন উৎসবের দিনে বলাটা ঠিক হবে কি না, জানি না। কিন্তু ছোটভাই বলে আজকের দিনে ওর কাছে একটা আবদার করতে চাই।
বিশু, তুই এ বার আই লিগটাও আমাদের দিস।
http://www.anandabazar.com/khela/eastbengal-footballer-samaresh-choudhury-enjoying-big-margin-wining-for-east-bengal-1.204514


শিল্টন বেঁচে যাবে কারণ আজকের দিনে তো বুফোঁরাও চার গোল খায় : ভাস্কর গঙ্গোপাধ্যায়

শিল্টন বেঁচে যাবে কারণ আজকের দিনে তো বুফোঁরাও চার গোল খায়

ভাস্কর গঙ্গোপাধ্যায়


৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৫, ০২:৩৮:৩৪

শিল্টন পালকে নিয়ে লেখাটা লিখতে বসে বেশ খারাপই লাগছে। চল্লিশ বছর পর এক মোহনবাগান গোলকিপারের কাছে আবারও এক অভিশপ্ত বিকেল, আবারও এক অপমানের প্রহর। ১৯৭৫ সালে ইস্টবেঙ্গলের কাছে আমার চার গোল খাওয়াটা লোকে ভুলতে পারেনি এখনও। আমি নিশ্চিত, রবিবারের পর আমার দুর্ভাগ্যের সঙ্গে এ বার শিল্টনেরটাও মিলিয়ে দেখা হবে।
আমাদের দু’জনই মোহনবাগান গোলের নীচে চার গোল করে খেয়েছি ঠিকই, কিন্তু আমাদের মধ্যে তফাতও আছে। ’৭৫-এর অভিশপ্ত ম্যাচে যে সমর্থকদের পাল্লায় আমাকে পড়তে হয়েছিল, এখনকার সমর্থন অতটা উগ্র নয়। এরা বিদেশি ফুটবল দেখে। জানে যে, খারাপ দিনে জিয়ানলুইগি বুফোঁ, পের চেকরাও চার-পাঁচ গোল খেতে পারে। আঘাত পায় ঠিকই, কিন্তু সব ছেড়েছুড়ে গোলকিপারকে টার্গেট বানিয়ে ফেলে না। আমার সময়ে যা ছিল না। তখন বিদেশি ফুটবলের প্রভাব ছিল না। তখন স্রেফ একটা লাইন জানতেন সমর্থকরা— জিতলে তোমাকে মাথায় তুলে রাখব। হারলে তোমাকে ছুড়ে ফেলে দেব।
তা ছাড়া শিল্টন অনেক অভিজ্ঞও পঁচাত্তরের ভাস্করের চেয়ে। আমি তখন আনকোরা একটা ছেলে যে স্বপ্ন দেখছে মোহনবাগান জার্সিতে ডার্বি খেলার। চার গোল খেয়ে মাঠ ছাড়ার পর আমি তো ভেবেছিলাম যে, ভাস্কর গঙ্গোপাধ্যায়ের ফুটবল আজ শেষ হয়ে গেল। আমার এক সমসাময়িক বিশ্বজিৎ দাস তো সাতাত্তরে দু’গোল খাওয়ার পর মাঠ থেকেই হারিয়ে গেল। আমি ওই ঘটনার পর বাড়ি থেকে অনেক দিন বেরোইনি। আমার আত্মীয়-স্বজনদেরও ছাড়া হত না। শেষ আমিও হয়ে যেতে পারতাম। কিন্তু নিজেকে ধ্বংস না হতে দিয়ে ঠিক করেছিলাম যে, আমার এখন সবে শুরু। হাতে সময় আছে। আসল ভাস্করকে দেখাব। ওই চার গোলকেই ফেরার মন্ত্র বানিয়ে ফেলছিলাম। এখনও আমার মোবাইল নম্বরের শেষ চারটে সংখ্যা কিন্তু শূন্য। মানে, ওই চারটে অভিশপ্ত গোল। ইচ্ছে করেই নিয়েছিলাম।
মনে হয় না, শিল্টনকে আমার মতো কোনও সমস্যায় পড়তে হবে। ও প্রতিষ্ঠিত। ব্যর্থতা যেমন দেখেছে, সাফল্যও দেখেছে। এটা ওর কাছে ধাক্কা ঠিকই। কিন্তু এটাকে প্রোফেশনাল হ্যাজার্ড হিসেবেই নেবে। ওর তো নিজেকে আর প্রমাণ করার কিছু নেই। গত বার আইলিগও জিতেছে। সমথর্করাও জানে যে ও ক্লাবের জন্য কতটা দিতে পারে। তাই রবিবারের চার গোল ওর কাছে সাময়িক ব্যর্থতার চেয়ে বেশি কিছু হবে না।
আর একা ও কী করবে? ওর সামনে যে ওয়াল ছিল তারাই তো সমস্ত গণ্ডগোলের মূলে। ডংয়ের ফ্রি কিককে আমি ছোট করছি না। দু’টোই অসাধারণ। ময়দানে এমন সেট পিস থেকে গোল বহু দিন দেখা যায়নি। কিন্তু বাগান ওয়ালও নিজের পজিশনে থাকল না। শিল্টন যখন নিয়ার পোস্ট গার্ড করছিল সেখানে ওয়ালে প্রথমে কোনও লম্বা কাউকে রাখা উচিত ছিল। দ্বিতীয় ভুলটা হল, ওয়ালে দাঁড়ানো সবাই আগেই এক দিকে ঝুঁকে পড়ল। কমিট করে গেল। ফলে ডং বুঝে গেল কোন জায়গাটা দিয়ে মারতে হবে। ওয়ালে দাঁড়ানো মূল কথাটাই হল, নড়াচড়া করা চলবে না। যে ফ্রি-কিক মারছে, তাকে বুঝতে দেওয়া চলবে না গোলটা কোন দিক থেকে হতে পারে। আমার সময় সুরজিত্ সেনগুপ্ত, গৌতম সরকার, সমরেশ চৌধুরী দুর্দান্ত ফ্রি-কিক মারত। এরা মারতে এলে আগে থেকেই আমি তৈরি থাকতাম। ওয়ালকে বলতাম, তোমরা যাই করো বলটা আমার অবধি যাতে না পৌঁছোয়। শিল্টন এখানে ভুল করল। ও নিজে জায়গা নিল। কিন্তু ওয়ালকে যতটা সতর্ক করা উচিত ছিল, ততটা করল না।
অভিশাপের দিনে যা হয়। 

http://www.anandabazar.com/khela/ex-keeper-bhaskar-gangopadhyay-recalls-1975-memory-and-compares-him-with-shilton-pal-1.204521


সেই সময় ইস্টবেঙ্গলের জয় স্বাভাবিক ঘটনা : সুরজিৎ সেনগুপ্ত

সেই সময় ইস্টবেঙ্গলের জয় স্বাভাবিক ঘটনা

কলকাতা সোমবার ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৫

সুরজিৎ সেনগুপ্ত: কলকাতা লিগকে গুরুত্বহীন করে দেওয়ার সবরকম অপচেষ্টা সত্ত্বেও কলকাতা লিগ তার গুরুত্ব বা আকর্ষণ হারায়নি। আজও কলকাতার দুই বড় ক্লাব ইস্টবেঙ্গল আর মোহনবাগান কলকাতা লিগ জেতাকে ততটাই উজ্জ্বল সাফল্য বলে মনে করে যতটা আগে করত। তার মূল কারণ, দর্শকরা বা সমর্থকেরা কলকাতা লিগকে গুরুত্ব সহকারে দেখে। ’৭০ থেকে ’৭৫— এই ৬ বছর পরপর কলকাতা লিগ জিতে ইস্টবেঙ্গল রেকর্ড করেছিল। তারপর ইস্টবেঙ্গল এবং মোহনবাগান দুই ক্লাবই এই রেকর্ড ভাঙার স্বপ্ন দেখেছে, চেষ্টারও ত্রুটি রাখেনি। দীর্ঘদিন পর এইবার ইস্টবেঙ্গল সেই রেকর্ড স্পর্শ করল। ইস্টবেঙ্গলের এই সাফল্যে দলের সবাইকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। আমি ইস্টবেঙ্গলের সাফল্যে বিশেষভাবে খুশি এই কারণে যে, ১৯৭৫ সালে যখন ইস্টবেঙ্গল এই রেকর্ড সৃষ্টি করে, তখন আমি লাল–হলুদ জার্সি পরি। আজ সেই স্মৃতি আমাকে বিশেষভাবে সুখে ভাসিয়ে দিচ্ছে। ৬ বছর লিগ জেতার রেকর্ডে শেষ ২ বছর আমি একজন সৈনিক। মোহনবাগান থেকে ইস্টবেঙ্গলে এসে যে পার্থক্যটা আমি লক্ষ্য করেছিলাম সেটা হল ড্রেসিংরুমের আবহাওয়া। উষ্ণতা আর আন্তরিকতায় প্লেয়ার, কর্মকর্তা, মালি, সভ্য সমর্থক সব যেন একাকার— বিশেষত ম্যাচের দিন। সবে ইস্টবেঙ্গলে এসেই হাবিবের কাছে শুনেছিলাম— ‘তু খেলেগা তো টিম খেলেগা।’ সিনিয়র প্লেয়াররা মোহনবাগানেও আমাকে যতটা সাহস দিয়েছেন, ইস্টবেঙ্গলেও ততটাই। তফাত শুধু এই যে ইস্টবেঙ্গলে দু’তিনজন নয়, সব প্রাক্তন ফুটবলারদেরই সম্মান পেতে দেখেছি। টিম স্পিরিটের কারনে ’৭৪–এর লিগে তো আমি হায়েস্ট স্কোরারই হয়ে গেলাম। ’৭৪ সালে ইস্টবেঙ্গলের হয়ে খেলে কলকাতা লিগে সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার পর ’৭৫ সালে মরশুম শুরুর সময় নিজের ফর্ম নিয়ে বেশ আস্থাবান ছিলাম। কারণ, প্র্যাকটিসে সুধীর কর্মকারকে ১০ বারের চেষ্টায় অন্তত ৩ বার বা কখনও ৪ বার টপকে যাচ্ছিলাম। কিন্তু, লিগ শুরু হওয়ার পর দেখা গেল আমি বেশ খারাপ খেলছি। তৃতীয় ম্যাচে প্রদীপদা বসিয়ে দিলেন, সুভাষ ভৌমিক আমার ফর্ম ফেরাবার দায়িত্ব নিল। তখন লিগে মোট ২২টা দল, তার মানে ২১টা ম্যাচ। ৩টে ম্যাচ বিশ্রাম নিয়ে ৭ নম্বর ম্যাচ থেকে খেলায় ফিরলাম। হঠাৎ লিগ বেশ কিছুদিনের জন্য বন্ধ হয়ে গেল। কারণ, মহমেডান মাঠে গ্যালারি ভেঙে গিয়ে বড় দুর্ঘটনা ঘটল। আমি খারাপ খেলি বা না–ই খেলি ইস্টবেঙ্গল কিন্তু ম্যাচ জিতছিল। সেবার লিগ জেতার পথে আমরা ২১টা ম্যাচই জিতেছিলাম, কোনও ম্যাচ ড্র–ও করিনি। যাই হোক, কিছুদিন লিগ বন্ধ থাকার পর লিগ শুরু হল ঠিকই, তবে হল আর এক বিপত্তি। ইডেন গার্ডেনসে ইস্টবেঙ্গল যখন মহমেডানের বিরুদ্ধে ৩–১ এগিয়ে তখন মাঠে জল জমার অজুহাতে মহমেডান মাঠ ছাড়ে। পরে রেফারির রিপোর্টের ভিত্তিতে ইস্টবেঙ্গলকে পুরো পয়েন্ট দেওয়া হয়। ব্যস, মহমেডান আদালতে চলে যায়। লিগ চলতে থাকে, চলে মামলাও। শ্যাম থাপার গোলে আমরা মোহনবাগানকে হারাবার পর লিগ জয়ের ব্যাপারে নিশ্চিত হয়ে যাই। কিন্তু ২১টা ম্যাচই জিতে লিগ চ্যাম্পিয়ন হওয়া সত্ত্বেও আদালতে মামলা থাকায় ঘোষণা আটকে থাকে। একটা স্বীকারোক্তি করা দরকার। মামলা, চ্যাম্পিয়নশিপ ঘোষণা পিছিয়ে যাওয়া ইত্যাদি বিষয়ে প্লেয়ারদের বিশেষ কোনও মাথাব্যথা দেখিনি। এমনকী সব ম্যাচ জিতে কলকাতা লিগের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতা জেতার পরও প্লেয়ারদের মধ্যে কোনও আত্মতুষ্টি লক্ষ্য করিনি। সেই সময় ইস্টবেঙ্গল দল ম্যাচ জেতাটাকে স্বাভাবিক ঘটনার পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিল। হেরে যাওয়া তো দূর, ড্র করার কথাও সেই ইস্টবেঙ্গল দল ভাবতে পারত না। তাই, চ্যাম্পিয়নশিপ ঘোষণা হোক বা না হোক, লিগ জেতার কাজ সম্পন্ন হয়েছে, এর পর আই এফ এ শিল্ডের প্রস্তুতি— এই ছিল প্লেয়ারদের মানসিকতা। লিগের শেষ ম্যাচের ১১ দিনের মাথায় ছিল আই এফ এ শিল্ড ফাইনাল, বিপক্ষে মোহনবাগান। সেদিন ক্লাবে আমাদের জানানো হয় (সম্ভবত উৎসাহ জোগাবার জন্যই) মামলার রায় নাকি মহমেডানের বিপক্ষেই যাবে এবং লিগ জয়ের ঘোষণা সময়ের অপেক্ষামাত্র। সেদিন আই এফ এ শিল্ডে আমরা ইতিহাস রচনা করার পরেও ক্লাবের সিনিয়ররা প্লেয়ারদের বোঝান যে, পরপর ৬ বছর লিগ জয় আরও বেশি গৌরবের। ’৭৫ সালে শেষপর্যন্ত লিগ জিতে আমরা রেকর্ড করেছিলাম। রেকর্ড যেমন গড়া হয়, তেমনই ভাঙাও হয়। অনেকের ধারণা রেকর্ড ভাঙলে বা স্পর্শ করলে যাদের রেকর্ড স্পর্শ হল, তারা দুঃখ পায়। সম্পূর্ণ ভুল। আজ যখন আবার ইস্টবেঙ্গল পরপর ৬ বছর চ্যাম্পিয়ন হয়ে আমাদের রেকর্ড ছুঁল, তখন আমরা খুবই খুশি। কারণ, আজকের রেকর্ডের কথা বলতে গেলে তো এতদিন অক্ষত রেকর্ডের কথা বলতেই হবে। এবার তো মামলার ঝামেলাও নেই, তাই লিগের শেষ ম্যাচের আগেই ইস্টবেঙ্গল লিগ জয়ের উৎসবে মেতে উঠতে পারল। কোচ, অধিনায়ক, প্লেয়ার আর কর্মকর্তাদের সবার জন্য ’৭৫ সালের ইস্টবেঙ্গল দলের সবার পক্ষ থেকে অনেক অনেক অভিনন্দন আর আই লিগের জন্য শুভেচ্ছা রইল।

http://aajkaal.in/sports/%E0%A6%B8%E0%A7%87%E0%A6%87-%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A7%9F-%E0%A6%87%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%99%E0%A7%8D%E0%A6%97%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%9C%E0%A7%9F-%E0%A6%B8/